সোমবার দুপুরে উপজেলার হোগলাডাঙ্গা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহাবুর রহমান ও আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রধান অভিযুক্ত মাহাবুর রহমান মণিরামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ও হোগলাডাঙ্গা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। আর আসাদ একই গ্রামের নওশের গাজীর ছেলে।
.png)
আহত নায়েব মোশাররফ হোসেন বলেন, হোগলাডাঙ্গা বাজারে সরকারি খাস জমি আছে। সম্প্রতি বাজারের ইজারা হয়েছে। হোগলাডাঙ্গা বাজারের সরকারি জমির পাশে ব্যক্তিমালিকানা জমি রয়েছে। কয়েকদিন আগে আমি সরেজমিন ঘুরে এসিল্যান্ড স্যারের কাছে জমির পরিমাণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছি।
নায়েব মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, হামলাকারীদের অভিযোগ আমি ব্যক্তিমালিকানা জমি সরকারি জমি দেখিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছি। এই অভিযোগে সোমবার দুপুরে হোগলাডাঙ্গা বাজারে স্থানীয় মাহাবুর ও আসাদসহ তিন থেকে চারজন আমাকে কিলঘুষি মেরে লাঞ্চিত করেন। একপর্যায়ে তারা আমার মোটরসাইকেলে থাকা হেলমেট নিয়ে মাথায় আঘাত করে আমাকে রক্তাক্ত জখম করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলী হাসান বলেন, সোমবার আমার দফতরের কানুনগো আকরাম হোসেন হোগলাডাঙ্গা বাজারে সরকারি জমি মাপতে যান। কানুনগোকে সহায়তা করতে সেখানে যান নায়েব মোশাররফ হোসেন। তিনি কানুনগোর সঙ্গে কথা বলে দুপুর ১টার দিকে নিজের মোটরসাইকেলে চড়ে অফিসের উদ্দেশে বের হন। এ সময় হোগলাডাঙ্গা বাজারে নায়েবের গতিরোধ করে তাকে মারপিট করা হয়েছে।
এসিল্যান্ড আলী হাসান বলেন, খবর পেয়ে আমি আহত নায়েবকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেছি। শুনেছি, হোগলাডাঙ্গা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহাবুর রহমান, নওশের গাজীর ছেলে আসাদ ও জলিল গাজী এবং শফিয়ার রহমানের ছেলে জুয়েল হোসেন নায়েবের ওপর হামলা চালিয়েছে।
হরিদাসকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর কবীর লিটন বলেন, সরকারি কাজে দায়িত্বরত অবস্থায় একজন নায়েবের গায়ে হাত দেওয়া গুরুতর অন্যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি হওয়া উচিৎ।
গ্রেফতারের আগে মাহাবুর রহমান সাংবাদিকদের মুঠোফোনে বলেন, সম্প্রতি আমি হোগলাডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হোগলাডাঙ্গা দারুসসালাম দাখিল মাদরাসা এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। এ জন্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসা করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি নায়েবকে আঘাত করিনি। বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা আমাকে ডাকায় সেখানে গিয়েছি।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস বলেন, নায়েবের মাথায় সেলাই দেওয়া হয়েছে।
মনিরামপুর থানার ওসি মেহেদী মাসুদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহাবুর ও আসাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।