ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আমের বোঁটায় বিস্ময়কর মুকুল, এলাকায় চাঞ্চল্য

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ৭ মে ২০২৪
আমের বোঁটায় বিস্ময়কর মুকুল, এলাকায় চাঞ্চল্য
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আম গাছে ধরে মুকুল। আর সেই মুকুল থেকেই হয় আম। কিন্তু ফরিদপুরের একটি আম বাগানে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। আম গাছের ডালে নয় বরং গাছের আমের বোঁটার মুখ থেকেই বের হয়েছে অসংখ্য আমের বিস্ময়কর মুকুল। আর সেই মুকুল থেকে এরইমধ্যে ধরেছে আমের গুটি! এমনই অবাক করা দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ফরিদপুরের ধলার মোড়ের কাছে একটি আম বাগানে। এ নিয়ে ঐ এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সেটি দেখতে ছুটেও আসছেন অনেক মানুষ।

আমবাগানের মালিক দুলাল হোসেন রুবেল বলেন, আমের বোঁটার মুখে আবার নতুন করে মুকুল আসতে দেখে ভিষণ অবাক হয়েছি। আল্লাহ চাইলে সবই পারেন, এটি দেখে তাই প্রমাণ হলো আবার। এটি আমার কাছে আল্লাহর একটি নিদর্শন মনে হয়েছে।

রুবেল বলেন, চার বছর আগে রেড পালমার জাতের এই আম গাছটি আমি বৃক্ষমেলা থেকে কিনি। পরের বছরই ফল আসে। আর এবার এলো আম থেকে আসা এই অবাক করা আমের মুকুল।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, ধলার মোড়ের এই এলাকায় আগে আশেপাশে কোনো সবুজ ছিল না। এই জায়গটি ছিল ২০ ফুট গভীর। চার বছর লেগেছে আমার এই বাগানটি দাঁড় করাতে। আলহামদুলিল্লাহ... এখন বাগানটি সবুজে ভরে গেছে। ধলার মোড়ে আমার এই বাগানটি ছাড়া আশেপাশে আর কোনো সবুজ চোখে পড়ে না।

তিনি বলেন, মূলত: পরিবেশের কথা বিবেচনা করেই ৬৯ শতাংশ জমির ওপরে এই খামার বাড়ি গড়ে তুলে সেখানে আম, কলা, লিচু, চালতে, সফেদাসহ নানা ফলের গাছ লাগিয়েছি। এখানে রেড পালমার ছাড়াও মিয়াজাকি, বানানা ম্যাঙ্গো, দেশীয় হাঁড়িভাঙা, বারি ৪ সহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৯০টি আম গাছ রয়েছে। সামনের অংশে এবার ড্রাগন ফলের চাষ করছি। এছাড়া কবুতর ও খরগোস পালছি। আগে কিছু গাড়ল ছিল, সেগুলো চরে পাঠিয়ে দিয়েছি।

সৈয়দ মোস্তফা আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমার বয়স ৭৬ বছর। আমার এই দীর্ঘজীবনে আমি এমন ফলের গায়ে মুকুল চোখে দেখিনি বা শুনিওনি। গতকাল সন্ধ্যায় আমি খবরটি শুনতে পেয়ে নিজ চোখে দেখার জন্য এসেছি। আমের বোঁটার ওপরে মুকুল ধরেছে আবার সেই মুকুল থেকে ছোট ছোট আমের গুটি বের হচ্ছে এটি আল্লাহরই একটা নেয়ামত।

এ ব্যাপারে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক দেব নারায়ণ রায় বলেন, উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় এমব্রায়োজেনোসিস (embryogenesis) যাকে বাংলায় বলা হয় ‘বহুভ্রুণতা’। এটি একটি ভ্রূণজনিত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ভ্রূণের গঠন ও বিকাশ হয়। অনেক সময় অতিরিক্ত ফলনের জন্য অতিরিক্ত মাত্রায় হরমোন প্রয়োগ করা হলে এমনটি ঘটে থাকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!