ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঘুষ নিতে এসে বাড়িতে আটকা কনস্টেবল, ৯৯৯-এ ফোনে...

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ১৯ মে ২০২৪
ঘুষ নিতে এসে বাড়িতে আটকা কনস্টেবল, ৯৯৯-এ ফোনে...
ফাইল ছবি

এক কনস্টেবল সাদা পোশাকে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, ঘুষ নেয়ার জন্য তিনি এসেছিলেন। তাকে আটকে রেখে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে ওই কনস্টেবলকে ছাড়িয়ে নেয় আর ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও জোরপূর্বক মুছে দেয়।

গতকাল শনিবার জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের শ্রীকৃষ্টপুর মহল্লার মৃত সেকেন্দার আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ওই কনস্টেবলের নাম আশিক হোসেন। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে আটকে রাখেন শ্রীকৃষ্টপুর মহল্লার বাসিন্দা সোহেল রানা ও স্থানীয় লোকজন।

Advertisement

ঘটনার বিষয়ে আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ রানা জানান, আমি কনস্টেবলের ওই ঘটনায় এসপি স্যারের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছি। এর বাইরে আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।

সোহেল রানার ভাষ্যমতে, সপ্তাহখানেক আগে জমিজমা নিয়ে একটি অভিযোগের তদন্ত করতে থানার এক এসআইয়ের সঙ্গে কনস্টেবল আশিক হোসেন শ্রীকৃষ্টপুর মহল্লায় এসেছিলেন। তখন সোহেল রানার কাছে এক হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন আশিক। দুইদিন পর রাতের বেলায় স্থানীয় একটি সড়কে কনস্টেবল আশিক সোহেল রানার পকেট তল্লাশি করে ইয়াবা পান। তখন তাকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। সোহেল রানা পরদিন সকালে ঘুষের টাকা দেবেন বলে কথা দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। পরদিন শুক্রবার সকালে কনস্টেবল আশিক ঘুষের টাকা নিতে সোহেলদের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করে তাকে পাননি। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আশিক হোসেন শ্রীকৃষ্টপুর মহল্লায় সোহেল রানার বাড়িতে গিয়ে ঘুষের ২০ হাজার টাকা চান। সোহেল রানা কনস্টেবলের হাতে ৫ হাজার টাকা দেন।

এ সময় সোহলের স্ত্রী মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। টের পেয়ে টাকা ফেরত দিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন আশিক। তখন সোহেল রানা কনস্টেবল আশিককে তার বাড়িতে আটকে রেখে ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফেরদৌস হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ সোহেল রানাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুঠোফোনে থাকা ঘুষ লেনদেনের ভিডিও মুছে ফেলে। এরপর আটক থাকা কনস্টেবলকে নিয়ে যায় তারা।

ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কনস্টেবল আশিক হোসেন। তার দাবি, সোহেল রানা একজন মাদক ব্যবসায়ী। তাকে চিহ্নিত করতে সাতসকালে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন। এ কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে শ্রীকৃষ্টপুর মহল্লার বাসিন্দা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফেরদৌস হোসেন বলেন, সোহেল রানার বাড়িতে সাদা পোশাকে একজন কনস্টেবলকে আটকে রাখা হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে কনস্টেবলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ঘটনার সময় একটি মুঠোফোন নিয়ে সোহেল রানার সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা কাড়াকাড়ি করছিলেন। সেটি কার ফোন ছিল তিনি জানেন না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!