দুর্ঘটনা রোধে অবিলম্বে সড়কের খুঁটির ওপর থেকে তারের জঞ্জাল নামিয়ে মাটির নিচ দিয়ে বসানোর দাবি নগরবাসীর।
নগরবাসী জানান, নগরীর গাঙিনাপাড়, স্টেশন রোড, রামবাবু রোড, দুর্গাবাড়ি রোড, সি.কে ঘোষ রোড, জিলা স্কুল মোড়, চরপাড়া মোড়, পাটগুদাম ব্রহ্মপুত্র ব্রিজ মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলির স্পর্শকাতর বৈদ্যুতিক খুঁটিতে অপরিকল্পিতভাবে খেয়াল খুশিমতো বছরের পর বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস ও ডিস ক্যাবল অপারেটরদের অসংখ্য তার।
.png)
দীর্ঘদিন যাবত বিনা বাধায় ইচ্ছেমতো এসব তার ঝুলিয়ে রাখায় তারের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। এতে নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলোমেলোভাবে ঝুলিয়ে রাখা এসব তার থেকে প্রায়ই ঘটছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। ঝুলে থাকা তারের জঞ্জালে প্রায়ই পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটকে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে তার ছিঁড়ে ব্যস্ত সড়কের ওপর পড়ে থাকছে দিনের পর দিন।
সি.কে. ঘোষ রোড এলাকার বাসিন্দা আফাজালুর রহমান বলেন, মাঝেমধ্যেই এসব তারের জঞ্জালের কারণে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। তারের নিচ দিয়ে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়। তবুও এ নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।
গাঙ্গিনাড়পাড় এলাকার ব্যবসায়ী আসাদ মিয়া বলেন, নগরীর প্রতিটি বৈদ্যুতিক খুঁটি তারের এই জঞ্জালের ভার এখন আর যেন বইতে পারছে না। তারের এই জঞ্জালের কারণে অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার দেখাও যায় না। পুরনো লাইন ও অবৈধ সংযোগের যে জঞ্জাল তৈরি হয়েছে তা থেকে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। কেউ কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে যে যার মতো এসব তার টানিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে।
ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নুরুল আমিন কালাম তারের জঞ্জাল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় তার ছিঁড়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকে। তারের জঞ্জাল থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খবর পেয়ে আগুন নেভায়। এ নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নগরবাসী আতঙ্কে থাকলেও নির্বিকার সিটি কর্তৃপক্ষ। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই নগরীতে সব ইন্টারনেট সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তারগুলো এক তারের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাহলে তারের জঞ্জাল কমে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুকি কমবে। তবে মাটির নিচে সব তার বসানো হলে দুর্ঘটনার কোনো ঝুকি থাকবে না।
বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ময়মনসিংহ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ্রজিৎ দেবনাথ বলেন, ইন্টারনেট সার্ভিস ও ডিস ক্যাবল থেকে প্রায়ই ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। মাঝেমধ্যে পুরো ফিডারের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে আগুন নেভাতে হচ্ছে। ইনসুলেটর ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ছাড়াও ইনসুলেশন করা বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র গরমের সময় বিদ্যুতের লোড বাড়লে এসব তারের জঞ্জাল থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অপরিকল্পিতভাবে যে হারে তার ঝুলানো হচ্ছে তাতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা রয়েছে।
তারের জঞ্জাল ও নানা অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ময়মনসিংহের পরিচালক কাজী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাটির নিচ দিয়ে সংযোগ নেয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। সিটি মেয়র সহায়তা করলে মাটির নিচ দিয়ে এসব তার বসানো সম্ভব হবে। তবে আমরা অপ্রয়োজনীয় সব তার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি।
মাল্টি ক্যাবল অপারেটর ময়মনসিংহের পরিচালক হারুন অর রশিদ বলেন, ক্যাবল অপারেটরদের মাত্র একটি তার। বাকি সব তার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের। মূলত তাদের তারই জঞ্জাল সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী বলেন, ক্যাবল অপারেটর মালিকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে। খুব দ্রুতই দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।