বাসে বমি করলে টাকা পান তারা!
টাকা নিয়ে কেউ বাসে উঠলে একসঙ্গে সেই বাসে উঠে পড়েন সবাই। তাদের মধ্যে একজন বসেন টাকাওয়ালা সেই যাত্রীর পাশে। বাস কিছুদূর চলার পর সেই একজনই টার্গেটকৃত ঐ যাত্রীর গায়ে বমি করে দেন। এরপর অন্যরা এগিয়ে এসে তড়িঘড়ি করে বমি পরিষ্কারের নামে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।
এভাবে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীবেশে চট্টগ্রাম নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল এ চক্র। বিশেষ করে লোকাল বাসের যাত্রীদের টার্গেট করে টাকা-মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিতেন তারা। অভিযান চালিয়ে ‘বমি পার্টি’ হিসেবে পরিচিত এ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেন বন্দর থানার ওসি মনজুর কাদের মজুমদার। এর আগে, মঙ্গলবার (২১ মে) রাজধানীর কাফরুল থানা ও নোয়াখালীর সুধারাম থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
.png)
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আনোয়ার হোসেন সোহাগ ও মো. সাহাব উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, গত ৬ মে নগরের ১০ নম্বর রুটে চলাচল করা বাসের ভেতর সাইফুল ইসলাম নামে এক যাত্রীর গায়ে বমি করেন চক্রটির এক সদস্য। এরপর কৌশলে ঐ যাত্রীর হাতে থাকা ব্যাগ কেটে নয় লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান চক্রের সদস্যরা। এ ঘটনায় ওইদিনই বন্দর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম। এরপর পৃথক অভিযান চালিয়ে রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন সোহাগ ও নোয়াখালীর সুধারাম থানা এলাকা থেকে সাহাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ওসি মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, গ্রেফতারকৃতরা বমি পার্টি চক্রের সক্রিয় সদস্য। টাকা নিয়ে বাসে উঠা ব্যক্তিরা থাকে তাদের টার্গেট। ঐ ব্যক্তির সঙ্গে তারাও বাসে উঠে পড়েন। বাস কিছুদূর চলার পর তাদের মধ্যে একজন টার্গেটকৃত ব্যক্তির গায়ে বমি করে দেন এবং অন্যরা টিস্যু দিয়ে বমি পরিষ্কার করতে করতে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেন।
ওসি বলেন, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন তারা। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতার ও অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।