ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ

১১ রেলস্টেশনের মধ্যে ৫টিই বন্ধ: দখলে রেললাইন 

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩০, ২৪ মে ২০২৪
১১ রেলস্টেশনের মধ্যে ৫টিই বন্ধ: দখলে রেললাইন 
অবৈধ দখলদারদের দখলে পরিত্যক্ত রেললাইন

চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের চাঁদপুর অংশ ৫১ কিলোমিটারে স্টেশন রয়েছে ১১টি। এরমধ্যে সচল আছে ছয়টি। লোকবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে বাকি পাঁচটি রেলস্টেশনের কার্যক্রম। একসময় বাণিজ্যিকভাবে মাল পরিবহনের জন্য ট্রেন থাকলেও এখন বন্ধ। মাল পরিবহনের ঐ রেললাইনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় এখন অবৈধ দখলদারদের দখলে। সম্প্রতি সদর উপজেলার রেল এলাকা ঘুরে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রেলওয়ে চাঁদপুর স্টেশন মাস্টারের কার্যালয় জানায়, একসময় চাঁদপুর-লাকসাম, চট্টগ্রাম, ভৈরব ও সিলেটের মধ্যে আটটি ট্রেন চলাচল করতো। কিন্তু এখন মাত্র দুটি ট্রেন চলাচল করে। এরমধ্যে দুটি ট্রেনই চাঁদপুর-চট্টগ্রামের মধ্যে চালু রয়েছে। একটি হচ্ছে আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস এবং অপরটি হচ্ছে সাগরিকা এক্সপ্রেস। বাকি লোকাল ছয়টি ট্রেনই এক দশকেরও বেশি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।

চাঁদপুর অংশে রেলস্টেশন রয়েছে লাকসামের দিক থেকে- চিতষী, মেহার, শাহরাস্তি, ওয়ারুক, হাজীগঞ্জ, বলাখাল, মধুরোড, শাহতলী, মৈশাদী, চাঁদপুর কোর্ট ও চাঁদপুর স্টেশন। এরমধ্যে কার্যক্রম চালু আছে চিতষী, মেহার, হাজীগঞ্জ, মধুরোড, চাঁদপুর কোর্ট ও চাঁদপুর স্টেশন।

Advertisement

অবৈধ দখলদারদের দখলে পরিত্যক্ত রেললাইন

মৈশাদী রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা মির্জা জাকির বলেন, আমাদের মৈশাদী রেলস্টেশনে কখনই সরকারি লোকবল ছিল না। যখন লোকাল ট্রেন চলাচল করেছে, তখন স্বেচ্ছাশ্রমে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা ছিল। এখন স্টেশন আছে জনবল নেই। এখন দুটি ট্রেন চলাচল করে। এরমধ্যে সাগরিকা এক্সপ্রেসে মৈশাদী স্টেশন থেকে যাত্রীরা চলাচল করতে পারছেন। কিন্তু টিকিট ক্রয় করতে হয় ট্রেনে ওঠার পরে।

পরিত্যক্ত রেললাইনগুলো হচ্ছে- চাঁদপুর শহরের চিত্রলেখা মোড় থেকে জেলা খাদ্যগুদাম পর্যন্ত এবং চাঁদপুর স্টেশন থেকে পদ্মা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানির ডিপো পর্যন্ত।

পরিত্যক্ত রেললাইন এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা বেপারী বলেন, গত প্রায় ২০ বছর দুটি ওয়েল স্টেশনে ট্রেনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আসে না। এখন আসে নদী পথে।

শহরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা ব্যবাসীয় শাহজাহান বলেন, অনেক বছর ধরে আমি এই এলাকায় ব্যবসা করি। একসময় সার ও কীটনাশকসহ অনেক পণ্যই মালবাহী ট্রেনে আসতো। এখন মালবাহী ট্রেনের পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। যে কারণে এখানকার রেললাইন পরিত্যক্ত এবং অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে।

পরিত্যক্ত রেললাইন

চাঁদপুর স্টেশন মাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) সোয়াইবুল সিকদার বলেন, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের ৫১ কিলোমিটার অংশে ১১টি স্টেশন। এরমধ্যে ছয়টি চলমান এবং লোকবল সংকটে বাকি পাঁচটি বন্ধ রয়েছে। তবে ঐসব স্টেশনেই অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে পরিত্যক্ত রেললাইন বলতে আগে এ লাইনগুলোতে পণ্য পরিবহন হয়েছে। এরমধ্যে জেলা খাদ্যগুদাম এখন নদী ও সড়ক পথে পণ্য পরিবহন করছে। আর পদ্মা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড নদী পথে জ্বালানি পরিবহন করছে। খাদ্য গুদাম এবং ওয়েল কোম্পানি আবারো পণ্য পরিবহনের জন্য আবেদন করলে লাইনগুলো চালু করা হবে। তবে বহু বছর লাইনগুলো ব্যবহার না করায় কোনো কোনো স্থানে অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে।

তিনি আরো বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!