ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবের মুর্হূতে যেভাবে জন্ম নিল দুই নবজাতক
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবের সময় বাড়িতে প্রসব বেদনায় ছটফট করছেন এক প্রসূতি। উপায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তীব্র ঝড়ো বাতাসের মধ্যেই প্রসূতিকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। সে সময় পুরো হাসপাতাল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন।
এ পরিস্থিতিতে ডা. সুমাইয়া ইসলাম নামে এক চিকিৎসক নিজের মোবাইলের টর্চের আলোতে নরমাল ডেলিভারি করার মতো সাহস দেখান। সুস্থভাবে জন্ম হয় ২ নবজাতকের।
সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যেই দুজন প্রসূতি তীব্র প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে আসলে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে এ ২ নবজাতক পৃথিবীর আলো দেখে।
.png)
মঙ্গলবার হাতিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুব মোর্শেদ লিটন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ডা. সুমাইয়ার তত্ত্বাবধানে থাকা মিডওয়াইফ মিম ও সাবরিনা জানান, চরকিং ইউনিয়ন থেকে রাত ১২টার দিকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন ফ্যান্সি বেগম। ঘূর্ণিঝড় রেমালের রাতে একটি ফুটফুটে কন্যা শিশুর জন্ম দেন তিনি।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডা. সুমাইয়া ইসলাম ও মিডওয়াইফ সাবরিনার আন্তরিক চেষ্টায় মায়ের সুস্থভাবে নরমাল ডেলিভারি করা সম্ভব হয়। সেই সঙ্গে ব্লাড ট্রান্সফিউশন এবং সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীর শক ও প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সক্ষম হন তারা।
ডা. সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে হাতিয়া উপজেলায় গত ২৬ মে রাত থেকে ইলেকট্রিসিটি ছিল না। ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব চাছিল। প্রসূতি দুজনের অবস্থাই খারাপ ছিল। সব কিছু মিলিয়ে যে কী অবস্থা পার করেছি আল্লাহ ভালো জানেন। শেষে মোবাইল ফোনের টর্চের আলোর সহায়তায় দুজন মা ও শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। সবাই ভালো আছেন আলহামদুলিল্লাহ।