ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
আখাউড়া-কসবা সড়ক

বিকল্প সড়ক ভেঙে যাওয়ায় পথচারীদের ভোগান্তি চরমে

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:০৪, ২ জুন ২০২৪
বিকল্প সড়ক ভেঙে যাওয়ায় পথচারীদের ভোগান্তি চরমে
বিকল্প সড়ক ভেঙে যাওয়ায় পথচারীদের ভোগান্তি চরমে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দুর্ভোগের অপর নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-কসবা সড়ক। এ সড়কের দেবগ্রাম এলাকায় জাজি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর পাশের বিকল্প সড়ক ভেঙে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে আখাউড়া-কসবা দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ বর্তমানে ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছেন। 

এছাড়া এই সড়কে ছোট বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে বিকল্প পথে তারা যাতায়াত করছেন। এতে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে যাত্রীদের পরিবহন খরচ। সেই সঙ্গে সময়ও অতিরিক্ত লাগছে।

রোববার দুপুর পর্যন্ত এই সড়কে যান চলাচলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় যাত্রীদের ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানায়।

Advertisement

বিকল্প সড়ক ভেঙে যাওয়ায় পথচারীদের ভোগান্তি চরমে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আখাউড়া-কসবা সড়কের আখাউড়া অংশের দেবগ্রামে বেইলি সেতুর বদলে রড-সিমেন্টের একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণের জন্য পাশে মাটির একটি বিকল্প সড়ক করা হয়েছে। এই সড়কটি দিয়েই মানুষ ও যান চলাচল করছে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দিনভর ভারি বৃষ্টি হওয়া ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে এই বিকল্প সড়কটি সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় বিপাকে পড়ে হাজারও মানুষ। একপ্রকার বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে অন্তত ৫ কিলোমিটার বেশি ঘুরে মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এজন্য গুনতে হচ্ছে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া। সেই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি মূলত জাজি গাংয়ের দেবগ্রামের এই সেতুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিতাস নদীতে যায়। সেতু নির্মাণের জন্য পাশে তৈরি করা বিকল্প সড়কের নিচ দিয়ে পানি সরার জন্য চারটি পাইপ দেওয়ার কথা থাকলেও বসানো হয়েছে দুটি পাইপ। এতে সড়কটি ভেঙে গেছে।

বিকল্প সড়ক ভেঙে যাওয়ায় পথচারীদের ভোগান্তি চরমে।পথচারী মো. মুর্শেদ মিয়া  বলেন, আখাউড়া-কসবা উপজেলার যাতায়াতের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। ভারত থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে বিকল্প সড়ক ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। চলাচলের জন্য বিকল্প সড়কটি দ্রুত না করায় আমাদেরকে এখন অন্য পথে প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে করে সময় ও লাগছে বেশি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ।

উপজেলার মোগড়া এলাকার যাত্রী মো. কবির মিয়া বলেন, আগে যেখানে মোগড়া বাজার থেকে আখাউড়া আসতে ২০ টাকা ভাড়া লাগতো। এখন ৪০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। তাছাড়া সময়ও বেশি লাগছে।

শহিদ স্মৃতি সরকারি কলেজের ছাত্র মো. এমদাদুল হক বলেন, বাড়ি থেকে কলেজে আসা যাওয়ায় অটোরিকশা ভাড়া ৬০ টাকা লাগতো। বিকল্প সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এখন আসা যাওয়ায় প্রায় ১০০ টাকা লেগে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নিয়মিত কলেজে যাওয়া সম্ভব হবে না।

সিএনজি চালক মো. রফিক মিয়া বলেন, আখাউড়া-কসবা রোডে নিয়মিত সিএনজি দিয়ে চলাচল করছি। বিকল্প সড়ক ভেঙে যাওয়ায় আখাউড়া আগরতলা সড়ক হয়ে তারাগন দিয়ে মেইন রোডে উঠে যেতে হচ্ছে। এখন ভাড়া নিয়ে প্রায় যাত্রীদের আগে যেখানে আধা ঘণ্টায় যে জায়গায় যাওয়া যেতো এখন এক ঘণ্টার ওপর সময় লেগে যাচ্ছে।

দেবগ্রামের বাসিন্দা মো. বাহার মিয়া বলেন, আগে বাড়ি থেকে আখাউড়া শহরে যেতে ৫ মিনিট সময় লাগতো। এখন বিকল্প সড়ক দিয়ে আসা যাওয়া করতে প্রায় ২০ মিনিটের মতো লেগে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ভাড়াও গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক বলেন, বিকল্প সড়কটি করার সময় পানি যাওয়ার জন্য আমরা প্রয়োজন মতো পাইপ দিয়েছি। কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবাহ বাড়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়। ঢালাইয়ের কাজ শেষ হলে হালকা যানের জন্য নতুন সেতু খুলে দেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!