মোংলা থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রোববার (২ জুন) রাতে তাকে উপজেলার মৌখালী আন্ধারিয়া গ্রামের নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
.png)
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মিঠখালি ইউনিয়নের মৌখালী আন্ধারিয়া গ্রামের তোয়েব আলী হাজারীর ছেলে সাইফুল হাজারীর (২৮) সঙ্গে ২০২১ সালে ইপিজেডে চাকরি করাকালীন জনৈক নারী ইপিজেড শ্রমিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। এর সুবাধে দু-জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সরলতার সুযোগ নিয়ে ইপিজেড শ্রমিককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসের ৪ তারিখ ধর্ষণ করেন এবং সেই ছবি গোপনে মোবাইলে ধারন করেন সাইফুল হাজারী। পরবর্তীতে সাইফুল ওই তরুণীকে বাড়িতে আসতে বললে তিনি বিয়ের কথা বলেন। এ সময় পূর্বের ধর্ষণের ছবি-ভিডিও তার মোবাইলে ধারণ করা আছে বলে জানান। তার কথা না মানলে ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে ভাইরাল করে দেবেন বলে হুমকি দেন এবং তাদের অন্তরঙ্গ ছবি ইপিজেড কর্মীর মোবাইলে পাঠান। পরে ১ লাখ টাকা দিলে ছবি ইন্টারনেটে ছাড়বে না বলে জানান।
ইপিজেড কর্মী তখন তার গচ্ছিত ও বেতনের অনুমান ৪ লাখ টাকায় ১টি মোটরসাইকেল কিনে সাইফুল হাজারীকে দেন। পরে বিয়ের কথা বলে চলতি বছরের গত ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় ইপিজেড শ্রমিককে সাইফুলের বাড়িতে ডাকেন। সেখানে তাকে ফের ধর্ষণ করেন এবং তাকে মারধর করে মোবাইল নিয়ে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেন সাইফুল হাজারী। আরো ২০ হাজার টাকা তার মোবাইলে পাঠাতে বলেন। ইপিজেড কর্মী সাইফুল হাজারীকে বিয়ের চাপ দিলে তাদের সব কিছু ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়ে ভাইরাল করে দেবেন বলে ফের হুমকি দেন।
এ ব্যাপারে ইপিজেড কর্মী গত ৯ মে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে মোংলা থানায় সাইফুল হাজারীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। পরে রোববার রাতে মোংলা থানা পুলিশ মিঠাখালি ইউনিয়নের মৌখালী গ্রামের আন্ধারিয়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাইফুল হাজারীকে গ্রেফতার করে।
মোংলা থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম জানান, এক ইপিজেড কর্মীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় সাইফুল হাজারীকে গ্রেফতারের পর সোমবার (৩ জুন) দুপুরে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।