ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে বেনজীরের সাভানা ইকো রিসোর্ট

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ৮ জুন ২০২৪
প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে বেনজীরের সাভানা ইকো রিসোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। আদালতের ক্রোক আদেশ বাস্তবায়ন করতেই রিসোর্টটির নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়। জেলা প্রশাসন বলেছে, সাময়িক বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের তদারকিতে পরবর্তী সময়ে সাভানা পার্ক খুলে দেওয়া হবে। 

শুক্রবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পার্কের প্রধান ফটকের পাশে মাইকিং করে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যৌথভাবে এ ঘোষণা দেয়। ফলে আদালতের নির্দেশে শনিবার থেকে জেলা প্রশাসনের হাতে থাকবে পার্কের কর্তৃত্ব।

এর আগে, সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুটি টিম ঐ পার্কে প্রবেশ করে। এরপর তারা বেনজীর ও তার পরিবারের মালিকানাধীন সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেয়।

Advertisement

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জেলার উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহামন, সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন সোহেল, দুদক মাদারীপুরের সহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগানসহ জেলা প্রশাসন ও দুদকের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালে র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপি থাকার সময়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল গ্রামে ৬২১ বিঘা (দুদকের তথ্য অনুযায়ী) জমির ওপর গড়ে তোলেন সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক। এ রিসোর্ট ও পার্কের সব জমি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাদের ভাষ্য, ভয় দেখিয়ে, জোর করে ও নানা কৌশলে জমি কেনা হলেও অনেক জমি দখল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। পরে আদালত সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম বলেন, গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমি আদেশ কার্যকর করার জন্য এখানে উপস্থিত হয়েছি এবং আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে এ সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক জেলা প্রশাসক।

এদিন পার্কের কারণে জমি হারানো মানুষ ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জড়ো হন। তারা আনন্দ-উল্লাস করেন। 

স্থানীয় ভুক্তভোগী বাদল বলেন, ডিসি স্যার পার্কের দায়িত্ব নেয়ায় আমরা অনেক খুশি। আমরা আশা করি, এখন থেকে সরকারি রাস্তা দিয়ে আমরা আমাদের জমি ও পুকুরে যেতে পারবো। আমাদের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী এই রাস্তা দিয়ে সহজে বহন করতে পারব।

গোপালগঞ্জের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, শনিবার সকাল থেকে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হবে। এরপর থেকে আয়-ব্যয়সহ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পার্কের সব কার্যক্রম চালু থাকবে এবং দর্শনার্থী প্রবেশে কোনো বাধা থাকবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: গোপালগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!