ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঘরের সিঁধ কেটে শিশু চুরির কারণ জানালেন পুলিশ সুপার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৫২, ১১ জুন ২০২৪
ঘরের সিঁধ কেটে শিশু চুরির কারণ জানালেন পুলিশ সুপার
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে রাতের আধাঁরে ঘরের সিঁধ কেটে চুরি করে নিয়ে যাওয়া দুই মাস বয়সী নবজাতক শিশু জুনায়েদকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের বেত্রাটি এলাকা থেকে শিশু জুনায়েদকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- মাইজখাপন ইউনিয়নের বেত্রাটি এলাকার মৃত শহীদ উদ্দিনের ছেলে রুবেল ও তাড়াইল উপজেলার শাহবাগ গ্রামের হারুন মিয়ার স্ত্রী শস্তু বেগম (রুবেলের শাশুড়ি)।

Advertisement

সোমবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোববার রাত পৌনে ২টা থেকে ৪টার মধ্যে শিশুটি চুরি হয়। আমরা এ ঘটনায় চারটি বিষয় টার্গেট করে কাজ শুরু করি। প্রথমত হত্যাকাণ্ড, দ্বিতীয়ত ট্রান্সজেন্ডার কেউ শিশুটিকে গোপন করেছে, কিন্তু এসব কিছুরই ক্লু পাওয়া যায়নি। পরে মনে হলো এটা চুরি। কিন্তু চুরিটা কে বা কারা করতে পারে মর্মে দুই শ্রেণির লোকদেরকে টার্গেট করে আগাই। এমন অনেকে আছেন যাদের মেয়ে সন্তান রয়েছে, শুধুমাত্র একটি ছেলের জন্য ভীষণ রকমের প্রত্যাশী। আশেপাশেই এ রকম খোঁজা শুরু করি। এরই মধ্যে একটি ক্লু পেয়ে সে অনুযায়ী কাজ শুরু করে পুলিশ। ক্লু অনুযায়ী পুলিশ জানতে পারে যে, রুবেল-খাদিজা দম্পতির তিনটি মেয়েসন্তান রয়েছে, চতুর্থ সন্তানও মেয়ে এটা তারা নিশ্চিত হয়েছিলেন।

‘পরে রোববার (৯ জুন) যে হাসপাতালে খাদিজা কন্যাসন্তান জন্ম দিয়েছে, সেই হাসপাতালে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে রুবেল-খাদিজা দম্পতির একটি মেয়ে ও একটি ছেলেসন্তান হয়েছে জানা যায়। দম্পতির দাবি অনুযায়ী চতুর্থবারে তাদের একটি মেয়েসন্তান এবং একটি ছেলেসন্তান হয়েছে। কিন্তু রোববার যে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন, তার বাহ্যিক অবয়ব ও লক্ষ্মণে সেটা একদিন আগের শিশু বলে মনে হয়নি। ফলে সন্দেহ বেড়ে যায়।’

‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে পুলিশকে তথ্য প্রদান করে। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ছেলেসন্তানটি রুবেল-খাদিজা দম্পতির সন্তান নয়। বরং এটি সাজ্জাদ-নাজমিন দম্পতির চুরি হওয়া সন্তান জুনাইদ।’

পুলিশ সুপার আরো বলেন, আটক রুবেল ও তার শাশুড়ি শিশুটিকে চুরির কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। পরপর চারটি মেয়েসন্তানের জন্ম হওয়া এবং ছেলেসন্তানের আকাঙ্ক্ষায় তারা এ কাজটি করেছে বলে ধারণা পুলিশের। এ বিষয়ে তাদেরকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের শাহবাগ গ্রামের নাজনীন-সাজ্জাদ দম্পতির ২ মাস বয়সী ছেলে জুনায়েদকে রোববার (৯ জুন) দিবাগত রাত অনুমান পৌনে ২টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামারা বসতঘরের সিঁধ কেটে চুরি করে নিয়ে যায়৷ ভোরে ঘুম থেকে উঠে শিশুটির মা নাজনীন তার বাচ্চাকে খুঁজে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ পরবর্তীতে শিশুটির মা নাজনীন তাড়াইল থানায় এ চুরির ঘটনা অবগত করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!