প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা, নেপথ্যে কী
বরিশালে শহীদ আরজুমনি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম কামরুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঐ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক, বরিশাল সিটি করপোরেশন মেয়র, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক ও উপপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অভিভাবকরা।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একজন দুর্নীতি পরায়ন, স্বেচ্ছাচারী, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম বিরোধী ও শিক্ষার্থী নির্যাতনকারী ব্যক্তি।
২০২৩ সালের নভেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষার সময় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. নাহিয়ানকে মিথ্যা অভিযোগে ইংরেজি পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক ২৫ মিনিট পর ষড়যন্ত্র করে বহিষ্কার করেন। এ ঘটনায় নাহিয়ানের লেখাপড়া ও মানসিক বিকাশে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এমনকি প্রধান শিক্ষক নাহিয়ানের মাকে অপমান করে লাইব্রেরি থেকে তাড়িয়ে দেন।
.png)
গত ৬ জুন ঐ প্রধান শিক্ষক নাহিয়ানকে আবার বাথরুমে কাছ থেকে ধরে ঢিল মারার মিথ্যা অভিযোগ এনে টিসি দেওয়ার কথা বলে ও অকথ্য ভাষায় বকাবকি করেন। নাহিয়ানের মাকে টিসি চেয়ে আবেদন করতে বলেন। আরো অনেক খারাপ আচরণ করেন, যা প্রধান শিক্ষক হিসেবে তার থেকে কাম্য নয়।
পরে নাহিয়ানের মা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আর নাহিয়ান মুক্তিযোদ্ধার নাতি পরিচয় দেন। এতে প্রধান শিক্ষক আরো ক্ষেপে যান। ঐ সময় তিনি বলেন, ‘কোনো মুক্তিযোদ্ধার ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনি কাউকে বিদ্যালয়ে রাখব না।’
২০২৩ সালে ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মো. তাহসিন। সে মুক্তিযোদ্ধা নাতি হওয়ায় তাকেও জোর করে টিসি দেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মো. আফরিদের মা হার্ট অ্যাটাক করায় এক সপ্তাহ ধরে স্কুলে যেতে পারেনি। পরে বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক মা ও ছেলেকে ডেকে অস্বাভাবিক আচরণ করেন।
অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তৌসিব অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ বোধ করলে বাসায় যেতে চাইলে তাকে গালাগালি, থাপ্পর মারেন এবং টিসি দেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ঐ বিদ্যালয়ে পাঠদান ঠিক মতো হচ্ছে না এবং শিক্ষার্থীরা সব সসময় আতঙ্কে থাকে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নাস্তার টাকা নেয়া হলেও নিয়মিত নাস্তা দেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কম্পিউটারে ব্যবহারিক ক্লাস বাবদ ২০ টাকা করে উত্তোলন করলেও ক্লাস হয় না এবং ল্যাব তালা বদ্ধ থাকে।
বিদ্যালয়ে জেনারেটর থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহার করা হয় না। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের চড়া দামে খাবার কিনতেও বাধ্য করেন। এছাড়া এসএসসি ২০২৪ সালের পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা জন্য ২০০ টাকা নেয়া হয় সিনিয়র শিক্ষক এমদাদুল হকের মাধ্যমে এবং শহীদ আরজুমনি সরকারি বিদ্যালয়ে প্রত্যয়নপত্র, মার্কসিট ও সার্টিফিকেটসহ অফিসিয়াল কাগজ আনতে গেলে অর্থ দিতে হয়। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসার কথা উল্লেখ করেন অভিভাবকরা।
অভিভাবক ফেরদৌস জাহান নাজনীন বলেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের প্রায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য মানসিকভাবে সহ্য করার মতো নয়।
আরেক অভিভাবক মো. হেমায়েত হোসেন বলেন, ঐ প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে গরু- ছাগলের মতো আচরণ করেন, এটা মানা যায় না। শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকতেই পারেন, তিনি সেটাও মানতে নারাজ। তিনি শুধু টিসি দেওয়ার ভয় দেখান।
বরিশাল বিভাগের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার উপপরিচালক মাহবুবা হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ছুটি শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক এ কে এম কামরুল আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে আমি অবগত নই।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুম্পা সিকদার বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।