ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করে দরপত্র ছিনতাই

দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর
প্রকাশিত: ১৪:২৫, ২১ জুন ২০২৪
প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করে দরপত্র ছিনতাই
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সড়ক ভবনে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করে শেরপুর-জামালপুর বনগাঁও ব্রহ্মপুত্র সেতুর টোল ইজারার দরপত্র ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে দোষীদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সড়ক ও জনপথ ভবনের ৩য়তলায় সহকারী প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেনের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মোবারক হোসেনসহ অফিস সহকারী লক্ষ্মী রানীকে লাঞ্ছিত করেছে দুর্বৃত্তরা।

জানা গেছে, শেরপুর-জামালপুর বনগাঁও ব্রহ্মপুত্র সেতুর টোল আদায়ের ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় ১১ জুন (মঙ্গলবার)। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে টেন্ডার জমা দেওয়ার সময় পেরিয়ে গেলে বাক্স খুলে সহকারী প্রকৌশলীর কাছে নেয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। তবে দুর্বৃত্তদেরকে কে সঠিকভাবে চিনতে পারেননি কেউ।

Advertisement

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সকালে মেসার্স অর্ণব ব্রিকস জামালপুর সড়ক ও জনপথ কার্যালয়ে সহকারী প্রকৌশরী মোবারক হোসেনের অফিস কক্ষে রক্ষিত টেন্ডার বাক্সে দরপত্র দাখিল করে। দুপুর সাড়ে ১২ টায় বাক্স থেকে দরপত্রটি খুলে শেরপুর অফিসে পাঠানোর প্রক্রিয়া করার সময় সহকারী প্রকৌশলী মোবারক হোসেনকে লাঞ্ছিত করে শিডিউল ছিনতাই করে চলে যায়।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মোবারক হোসেন অভিযোগ বলেন, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বাক্সে একটি দরপত্র জমা পড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার পর দরপত্র বাক্স খুলে দরপত্রটি নিয়ে আমার কক্ষে নিয়ে আসা হয়। পরে দরপত্রটিতে স্মারক নম্বর দেওয়ার সময় ছয় থেকে সাতজন দুর্বৃত্ত এসে অতর্কিত হামলা করে দরপত্রটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আমাকে ও অফিস সহকারী লক্ষ্মী রানীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে দরপত্রটি কেটে পড়েন।

তিনি আরো জানান, গত অর্থবছরে এই সেতুটি টোল আদায়ের ইজারা মূল্য ছিল ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কেন এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলো সঠিকভাবে কেউ কিছু বলতে পারছে না। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শহরে হৈ চৈ শুরু হয়। জামালপুর সড়ক ভবনে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও ঠিকাদাররা ভিড় করেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় পুলিশসদর থানা পুলিশ সড়ক ভবনে পৌঁছার আগেই সেতু ইজারার দরপত্র ছিনতাইকারী দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সড়ক ভবনে দরপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনাটি জানাজানি হলে উৎসুক ঠিকাদার, ইজারাদার ও স্থানীয় লোকজনরা সেখানে ভিড় করেন। ঠিকাদাররা অফিসে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও নানা ধরনের মন্তব্য করেন।

জামালপুর সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওয়াজিস রহমান বিশ্বাস বলেন, দুর্বৃত্তরা এসে অফিসের স্টাফদের লাঞ্ছিত করে সেতু ইজারার একটি দরপত্র ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

মেসার্স অর্ণব ব্রিকসের প্রতিনিধি মাসুদ রানা বলেন, বৃহস্পতিবার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। দরপত্রের সব কাজ শেষে সিলগালা করে দরপত্রের বাক্সে জমা দেওয়া হয়। এ জায়গার যিনি দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি দরপত্রটি খুলে শেরপুর পাঠানোর জন্য কাজ করছিলেন। এমন সময় কয়েকজন এসে দরপত্রটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

জামালপুর সদর থানার ওসি মুহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন, অভিযোগ দাখিল করেছেন। সেইসঙ্গে পুলিশ ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করে দোষীদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। সিসি ফুটেজ দেখে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!