সরেজমিন উপজেলার পুলেরঘাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাকিম বিল্লাল হোসেন, কবিরাজ গোলাপ মিয়া ও দন্ত চিকিৎসক আলম মিয়া নামে তিনজন পৃথক স্থানে আসর জমিয়েছেন। সেখানে ওষুধের পসরা সাজিয়ে মাইক হাতে দাঁড়িয়ে চটকদার কথায় নিজেদের তৈরি সালশার (ওষুধের) গুণাগুণ সম্পর্কে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছেন।
হাকিম বিল্লাল হোসেন দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমার সালশা (ওষুধ) অজীর্ণ, পান্ডু, রক্তশূন্যতা, অশ্ব, জন্ডিস, গ্যাস্ট্রিক, মেহ-প্রমেহ, গণোরিয়া, ধাতু দুর্বলতা, সেক্স, ইন্দ্রিয় শিথিলতা, আমাশয়, শ্বেত-প্রদর, বাধক-বেদনা, বাত, কফ, সূতিকা, তলপেটে চাকা, হাত-পা জ্বালা, মাথা ঘুরা, চোরাই জ্বর, এলার্জিসহ যাবতীয় পুরুষ ও স্ত্রী রোগের অব্যর্থ টনিক। ইহা সেবন করা মাত্রই দূষিত রক্তকে পরিষ্কার করে, নতুন রক্ত বৃদ্ধি করে। ’
.png)

দন্ত চিকিৎসক আলম মিয়া, তার আসরে দাঁড়িয়ে উচ্চ কণ্ঠে চকটদার ভাষায় নিজের তৈরি ওষুধের গুণাগুণ তুলে ধরছেন।
তিনি বলছেন, ‘আমার তৈরি ওষুধে পোকায় ধরা দাঁতের যেকোনো ধরনের ব্যথা নিরাময় করতে সক্ষম। যত কঠিন ব্যথাই হোক দাঁতের ক্ষত স্থানে এই ওষুধ লাগানোর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ব্যথা সম্পূর্ণ দূর হয়ে যাবে। এছাড়াও যেকোনো পোকায় ধরা দাঁত বিনা পয়সায় তুলা হয়। যে দাঁত তুলতে ডাক্তাররা ৫০০-১০০০ টাকা নেন। আমার কাছে এই দাঁত তুলতে এক টাকাও লাগে না।’
পুলেরঘাট বাজার ছাড়াও উপজেলার পাকুন্দিয়া সদর বাজার, মির্জাপুর বাজার, মঠখোলা বাজার, হোসেন্দী বাজার, নারান্দী বাজার, সুখিয়া বাজার, জাঙালিয়া বাজার, তারাকান্দি বাজার ও মুনিয়ারীকান্দা বাজারসহ অন্তত ১৫টি বাজারে গানের আসর জমিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। প্রত্যেক চিকিৎসক প্রতি বাজারের দিন গড়ে ৪০-৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞান কীভাবে পেয়েছেন জানতে চাইলে হাকিম বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমার দাদা এ চিকিৎসা করতেন। আমার দাদার কাছ থেকে বাবা শিখেছেন। বাবার কাছ থেকে আমি শিখেছি। বংশ পরম্পরায় এ চিকিৎসা করে আসছি। বিভিন্ন গাছ-গাছড়া দিয়ে এই ওষুধ তৈরি করি। আমার ওষুধের নাম হোসেন টনিক। আয়ুর্বেদিক মতে প্রস্তুত করি। আমার ওষুধের কোনো দুর্নাম নাই।’
দন্ত চিকিৎসক আলম মিয়া বলেন, ২৮ বছর ধরে আমি এই দাঁতের চিকিৎসা করে আসছি। আমার তৈরি ওষুধ খুবই কার্যকরী। ওষুধ লাগানোর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ব্যথা দূর হয়ে যায়। প্রতিটি ফাইল আমি ৫০ টাকায় বিক্রি করি।
পুলেরঘাট এলাকার আদর্শপাড়া গ্রামের ছফির উদ্দিন বলেন, একমাস আগে পুলেরঘাট বাজার থেকে এক কবিরাজের কাছ থেকে ১০০ টাকা দিয়ে একটি সালশার বোতল নিয়েছিলাম। খাওয়ার সময় একটু ভালো লাগলেও পরবর্তীতে কোনো কাজ হয়নি।
সুখিয়া গ্রামের লিটন মিয়া বলেন, গত মঙলবার পুলেরঘাট বাজারে দাঁতের কবিরাজের চটকদারি কথাশুনে ৫০ টাকা দিয়ে একটি ফাইল নিয়েছিলাম। ওষুধ লাগানোর পর দাঁতের ব্যথা কিছুক্ষণের জন্য সামান্য কমলেও স্থায়ীভাবে কমেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান বলেন, ফুটপাতের হাতুড়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কেউ যদি হাতুড়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। তবে রোগীদের রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দেন তিনি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.বিল্লাল হোসেন বলেন, শিগগিরই এদের বিরুদ্ধে বাজারে বাজারে অভিযান চালানো হবে।