ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যেভাবে গ্রেফতার হলো কারাগার থেকে পালানো ৪ ফাঁসির আসামি 

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩০, ২৬ জুন ২০২৪
যেভাবে গ্রেফতার হলো কারাগার থেকে পালানো ৪ ফাঁসির আসামি 
গ্রেফতার হওয়া চার ফাঁসির আসামি

বগুড়া জেলা কারাগারের ছাদ ফুটো করে গভীর রাতে পালিয়ে যান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি। এর কিছুক্ষণের মধ্যে শহরে চেলোপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে কারাগারের কনডেম সেল থেকে পালিয়ে যান আসামিরা। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে এডিএমকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরা হলেন- কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী থানার দিয়াডাঙ্গা গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম ওরফে মজনু ওরফে মঞ্জু (৬০), নরসিংদী জেলার মাধবদী থানার ফজরকান্দি গ্রামের মৃত ইসরাফিলের ছেলে আমির হামজা ওরফে আমির হোসেন (৪১), বগুড়ার কাহালু উপজেলার উলট্ট গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে জাকারিয়া (৩৪) এবং বগুড়া সদরের কুটিরবাড়ী গ্রামের ইসরাইল শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩০)। তারা প্রত্যেকেই হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। 

বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।  

Advertisement

পুলিশ সুপার বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চার আসামি ছাদ ফুটো করে বের হন। এরপর তারা বিছানার চাদর ব্যবহার করে দেয়াল টপকে বাইরে চলে যান। ভোররাত ৩টা ৫৫ মিনিটে পুলিশের একাধিক টিম খবর পেয়ে শহরে তল্লাশি শুরু করে। পরে ভোর ৪টা ১০ মিনিটে শহরের চেলোপাড়া চাষি বাজার থেকে চারজনকেই গ্রেফতার করা হয়। 

তিনি আরো জানান, পালিয়ে যাওয়ার পরপরই জেলা কারাগার থেকে পাঠানো ছবি দেখে গ্রেফতারকৃতদের শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতারের পর চারজনকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয় এবং কারা কর্তৃপক্ষ তাদের শনাক্ত করে।

পুলিশ সুপার বলেন, কারাগার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, তারা চারজন একই সঙ্গে একটি কক্ষে অবস্থান করতেন। তারা পরিকল্পিতভাবে ছাদ ফুটো করে পরিধেয় বস্ত্র ও বিছানার চাদর জোড়া দিয়ে রশি বানিয়ে দেয়াল টপকে করতোয়া নদীর পার হয়ে পালিয়ে যান। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে এডিএমকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- এডিএম, পুলিশের একজন কর্মকর্তা,  র‌্যাবের একজন, গণপূর্ত বিভাগের একজন, ফায়ার সার্ভিসের একজন এবং জেলা কারাগারের একজন।

ডিআইজি ( প্রিজন) কামাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বিষয়টি দেখতে অতিরিক্ত আইজি (প্রিজন) আসছেন। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মামলা করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!