ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মাকে চিঠি লিখে স্ত্রীকে হত্যা: যেভাবে গ্রেফতার হলেন সেই আল-আমিন

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ২৭ জুন ২০২৪
মাকে চিঠি লিখে স্ত্রীকে হত্যা: যেভাবে গ্রেফতার হলেন সেই আল-আমিন
গ্রেফতারকৃত আল-আমিন

গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী মীম আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় স্বামী আল-আমিনকে জামালপুর থেকে গ্রেফতার করেছেন র‌্যাব-১ গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের সদস্যরা। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব পোড়াবাড়ী কার্যালয়ে ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর জুন্নুরাইন বিন আলম। 

এর আগে, বুধবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার ফৌজদারি মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় ।

Advertisement

নিহত মীম আক্তার সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মুলকান্দি (ছোট বেড়া খারুয়া) গ্রামের ইউসুফ আলী খানের মেয়ে। গ্রেফতারকৃত আল-আমিন টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার কালাই গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে। আল-আমিন স্ত্রীকে নিয়ে আব্দুস সামাদের বাসার তিন তলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। 

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুছ জানান, তিনমাস আগে আল-আমিন তার স্ত্রী মীম আক্তারকে নিয়ে ওই বাড়ির তিন তলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বুধবার দুপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর তার অফিসের সহকর্মী আরিফকে ফোনে করে জানান তার স্ত্রী মীম আক্তারকে হত্যা করে লাশ ঘরে রেখে তালা দিয়ে চলে এসেছি। দেয়ালে তার (স্ত্রীর) নানার নম্বর লেখা আছে। তাদের খবর দিয়েন যেন লাশ দিয়ে যায়।

লাশের পাশে রাখা চিরকুটে অভিযুক্ত আল আমিন লেখেন- ‘মা, আমারে মাফ কইরা দিও। অনেক স্বপ্ন ছিল তুমাকে কোনদিন কষ্ট দিব না। কিন্তু এমন একজন মানুষ আমারে আইনা দিছ, যার অত্যাচার থেকে বাঁচতে এই সিদ্ধান্ত নিলাম। তিলে তিলে মরার চাইতে একেবারে মরে গেলাম। সবাই আমাকে মাফ কইরা দিও, সে আমাকে কয়েক মাসের মধ্যে মানসিক রোগী বানাইয়া ফালছে। নিজে একাই মইরা যাইতাম, কিন্তু এরে যদি বাঁচাইয়া রাইখা যাই, এ আরো অনেক মানুষের জীবন নষ্ট করবো। তাই মাইরা ফেললাম।’ 

আরো লেখা ছিল—‘অনেক স্বপ্ন ছিল, রাসূলের সব সুন্নতগুলি আমার জীবনে বাস্তবায়িত করব। কিন্তু পারলাম না। পরিশেষে সবার জন্য দোয়া করে গেলাম, এমন বউ যেন কারো কপালে না জোটে।’ 

আল আমিন লিখেছেন, ‘কাওসার ভাইদের দোকান থেকে ৫০০ টাকা নগদ দিয়া ৯০০ টাকা বাকি রাখিয়া চাউলের বস্তা আনছিলাম। রুম ভাড়া রুমের আসবাবপত্র বিক্রি করে দিয়া দিও।’ 

স্বামী লিখে যায় নিজে একাই মইরা যাইতাম। কিন্তু এরে (স্ত্রী) যদি বাচাইয়া রাইখা যাই, সে আরো অনেক মানুষের জীবন নষ্ট করবে। তাই, মাইরা ফেললাম। অনেক স্বপ্ন ছিল রাসূলের সব সূন্নাহগুলো আমার জীবনে বাস্তবায়ীত করমু। কিন্তু, পারলাম না।

শ্রীপুর থানার ওসি আকবর আলী খান জানান, ভিকটিম মীম আক্তার এবং আল-আমিন চাচাতো ভাই-বোন ছিলেন। গত ৯ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী আল-আমিনকে এখনো (দুপুর) পর্যন্ত থানায় হস্তান্তর করেনি র‍্যাব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!