সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুর রহমানের স্থাবর সম্পত্তির দলিল ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এছাড়াও তার স্ত্রী তহুরা বেগমেরও নামের দলিল ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলুর রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের তেঁতুলিয়া শাখার ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. গোলাম ফারুক এ আদেশ দেন।
.png)
আদালত সূত্রে জানা যায়, আসামি কাজী মাহামুদুর রহমান ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর দুদক দিনাজপুর অফিসে তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৭৯ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে রেখেছেন। অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজী বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করেন।
তদন্তকালে আসামি কাজী মাহামুদুর রহমান তার নামে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাবর-অস্বাবর সম্পদ বিক্রি করে বিদেশ পালানোর চেষ্টা করছেন। পরে আসামি ও তার স্ত্রী তহুরা বেগমের নামে অর্জিত সম্পদ ক্রোক বা জব্দ করার জন্য সিনিয়র স্পেশাল জজে ঠাকুরগাঁও দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচলক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা ৯ জুন আবেদন করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে, এটা আমি জানি। তবে আজকের আদালতের আদেশ সম্পর্কে জানা নেই।’
জেলা জজ কোর্টের দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইমরান হোসেন আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে আয়কর আইনে কাজী মাহমুদুর রহমানের আয়কর ফাইলপ্রাপ্ত হন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
পাবলিক প্রসিকিউটর আরো জানান, আয়কর ফাইল ও তদন্তের পরিধি অনুযায়ী এ পর্যন্ত জানা যায়, কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু ২০২০ সালে দাখিলকৃত সম্পদের হিসাবে ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫২ টাকার সম্পদের হিসাব গোপন করেছেন এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৭৯ লাখ ৭২ হাজার ৫৫ টাকার সম্পদ ভোগ দখল করছেন। গত ১২ জুন এসব সম্পদের দলিল ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব জব্দের আবেদন করেন মামলার বাদী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কাজী মাহমুদুর রহমানের নামে ১৬টি এবং তার স্ত্রীর নামে ১টি দলিল ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।