ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মিয়ানমারে ফের বেড়েছে বিস্ফোরণ, কাঁপছে টেকনাফ এলাকা

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩২, ৪ জুলাই ২০২৪
মিয়ানমারে ফের বেড়েছে বিস্ফোরণ, কাঁপছে টেকনাফ এলাকা
টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্ক বিরাজ করছে

সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির চলমান সংঘাতে বিস্ফোরণের শব্দ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিস্ফোরণ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে শোনা যাচ্ছে। ওপারের বিস্ফোরণের শব্দ সীমান্তের এপারে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন সৃষ্টি হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকার লোকজন জানান, টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর ওপার থেকে ভেসে আসা গোলাগুলি, বোমা ও মর্টার শেলের বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সারাদিন মর্টারশেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত।

টেকনাফ পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. ইয়াসিন বলেন, গোলাগুলির শব্দের শেষ কোথায় জানি না। মনে হচ্ছে মিয়ানমারে দুই পক্ষের সংঘাত দিনদিন ব্যাপক আকার ধারণ করছে। এই বিকট শব্দে ঘুমহীন সময় কাটছে এপারের সীমান্তে থাকা বসবাসকারীদের।

Advertisement

পৌরসভার কুলাল পাড়ার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর মিয়ানমারের মংডু শহরে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব এলাকায় আরাকান আর্মি ও সে দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘাত হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে।

সাবরাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিদ্দিক আহমদ বলেন, মর্টারশেল আর বিস্ফোরণের শব্দে পুরো টেকনাফ কাঁপছে। অন্যদিন থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ এলেও বুধবার সারারাত অবিরতভাবে ভেসে আসে।

টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের আশপাশে সংঘাত অনেক বেড়ে গেছে। বিদ্রোহীরা মংডু শহর নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এজন্য একের পর এক হামলা হচ্ছে। এসব কারণে মংডু শহরের পশ্চিম সীমান্তের টেকনাফ পৌরসভা, সাবরাং ইউনিয়ন এলাকা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, নাফ নদীর ওপাশ থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। আমাদের সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ যেন ঘটতে না পারে সেজন্য আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবির টহল সদস্যরা রাত-দিন কঠোর নজরদারি করছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!