ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

জেমির মরদেহ দেখে বাবা বললেন, ‘আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল’

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:২১, ১৫ জুলাই ২০২৪
জেমির মরদেহ দেখে বাবা বললেন, ‘আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল’
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়া শহরের একটি ছাত্রী মেস থেকে জেমি নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শহরের কালিশংকর পুরের ছাত্রীনিবাস থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহত তাসনিভু আক্তার জেমি (১৮) মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার আনন্দধাম গ্রামের জাহিদুর রহমানের মেয়ে। তিনি কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর এলাকার সোনার বাংলা মসজিদের সামনে নাসিমা খাতুনের বাড়ির চারতলায় ছাত্রী মেসে প্রায় দেড় বছর ধরে থাকতেন।

ছাত্রীনিবাসের ছাত্রীরা, বাড়ির মালিক ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দরজা বন্ধ থাকায় মেসের ছাত্রীরা ও বাড়ির মালিক তার দরজায় ডাকলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। রোববার সকালের দিকে ঘরের দরজা ভেঙে জেমির লাশ ঝুলতে দেখা যায়। তারা ঝুলন্ত জেমির দেহ নামায় এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার কয়েকজন বান্ধবী ও ওই মেসের ছাত্রীরা বলেন, জেমি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। প্রচুর পড়াশোনা করতেন। ভালো ছাত্রী ছিলেন। তার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় কয়েকদিন ধরে খুব মন খারাপ করে ছিলেন। তিনি অনেক ভেঙে পড়েছিলেন। পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে নিহতের বাবা জাহিদুর রহমান বলেন, আমার মেয়ে খুব ভালো। সে খুব মেধাবী শিক্ষার্থী। এসএসসি পরীক্ষায় সে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। সে সরকারি ও বেসরকারি মেধা বৃত্তি পেতো। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা জানি না। মেয়েটাকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

এ বিষয়ে কু‌ষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন তা জানা যায়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!