ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
পানিতে ডুবে মৃত্যু:

সেই চারজনের পাশাপাশি দাফন, ফের ৩ জনের প্রাণহানি

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০২:৩৫, ১৬ জুলাই ২০২৪
সেই চারজনের পাশাপাশি দাফন, ফের ৩ জনের প্রাণহানি
ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরে বন্যার পানিতে গোসল করতে নেমে চারজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে। চারজনের এক সঙ্গে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জামালপুর সদর উপজেলার শেহড়াতলী গ্রামে ফুটবল আনতে গিয়ে দ্বীপ্ত (৯), হরিণাকান্দা নলকুড়ি গ্রামে পুকুরে গোসল নেমে পুকুরে ডুবে উমর আলীর মেয়ে উর্মি (৮) ও চান মিয়ার মেয়ে তাসফিহিমের (৯) মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে গত দুই দিনে ৭ জনের মৃত্যু হলো। দ্বীপ্ত নান্দিনা শাহীন স্কুলের ক্লাস ফোরের ছাত্র ছিলো। তার বাবা আসাদুল ইসলাম আসাদ নান্দিনা জেনারেল হসপিটালে অপারেশন থিয়েটারের অটিবয় হিসেবে কর্মরত।

Advertisement

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার বিকেলে বাড়ীর পাশে একটি মাঠে কয়েকজন শিশুর সাথে দ্বীপ্ত ফুটবল খেলছিলো। এ সময় ফুটবলটি পাশের ডোবায় গিয়ে পড়ে। দ্বীপ্ত ডোবা থেকে বলটি আনতে গিয়ে পানির স্রোতে সে তলিয়ে যায় এবং ডোবার পানিতে কচুরি পানার নিচে শ্বাসরোধে মারা যায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে নান্দিনা জেনারেল হসপিটালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দ্বীপ্তর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অপরদিকে রোববার দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের হরিণাকান্দা নলকুড়ি গ্রামে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে উমর আলীর মেয়ে উর্মি (৮) ও চান মিয়ার মেয়ে তাসফিহিম (৯) পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। পরিবারের লোকজন দুজনের মারদেহ উদ্ধার করে আজ দাফন সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে জামালপুর জেলার মেলান্দহ্ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালুচর এলাকায় বন্যার পানিতে গোসলে নেমে মৃত চারজনের মরদেহ পাশাপাশি কবরস্থ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার দক্ষিণ বালুচর সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর খবরে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শ্যামপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজাদ আলী বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে জানাজা শেষে বালুরচর সামাজিক কবরস্থানে সবার পাশাপাশি কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে। পানিতে গোসল করার সময় একসঙ্গে এতো মৃত্যু আমরা কখনোই দেখিনি।’

নিহতদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে প্রাণে বেঁচে ফেরা শিশুর মারিয়ার মা বলেন, ‘একসঙ্গে পাঁচজনই বাড়ির পাশেই ধানখেতে জমিতে বন্যার পানি আসায় গোসল করতে যান। আমার মেয়ে তাদের থেকে একটু দূরে ছিল। সে সামনের দিকে না গিয়ে বাড়িতে এসে ডুবে যাওয়ার খবর দেন। খবর শুনে আমরা গিয়ে দেখি দুজনের মরদেহ পানিতে ভেসে উঠেছে। আর দুজনের মরদেহ তলিয়ে ছিলো।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে তিন শিশু, এক কিশোরী ও এক গৃহবধূ বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে গোসল করা অবস্থায় হঠাৎ করে দুই শিশু, এক কিশোরী ও গৃহবধূ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন। দূরে থাকা এক শিশু তাদের তলিয়ে যাওয়া দেখে দৌড়ে বাড়িতে এসে ডাক চিৎকার করে খবর দেন।

আবুল হোসেন বলেন, আমি রাস্তা দিয়ে যাইতেছি। তখন দেখি পানির কিনারে মাহিলারা কান্নাকাটি করছে। কাছে গিয়ে শুনি পানিতে চারজন পানিতে ডুবে গেছে। তারাতাড়ি নেমে তাদের উদ্ধার করা হলেও কেউই বাচে নাই।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহমেদ বলেন, গোসল করতে গিয়ে বন্যার পানিতে ডুবে চারজনের মৃত্যু হয়। আজ সকালে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে দিশা আক্তার (১৭), সবুজ মিয়ার মেয়ে সাদিয়া (১০), গোলাপ আলির মেয়ে খাদিজা (১০), ও বাবুলের স্ত্রী রোকশানা (২৫)। নিহতরা সবার বাড়ি একই স্থানে। বেঁচে ফেরা শিশুর নাম মারিয়া (১২)। এদের মধ্যে দিশা আক্তার জাহানারা লতিফ কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তো। আসছে শুক্রবার তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সাদিয়া ও খাদিজা তার দুজনেই দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। রোকশানা তিনি দক্ষিণ বালুচর এলাকার গৃহবধূ ছিলেন।

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলমি বলেন, জামালপুরের সব কয়েকটি উপজেলাতেই বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে প্রতিনিয়তই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শিশুসহ পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে যুবক, যুবতি বয়োবৃদ্ধরা। বন্যা পানিতে নামার আগে সবারই চিন্তা করা দরকার। স্রোত বা গর্ত ডু্বে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সাথে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও সর্বদা শতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পানিতে ডুবে সারাবছরই মানুষ মারা যায়। পানিতে নামার আগে আমাদের অবশ্যই সাতার জানতে হবে। সাতার না জানলে অবশ্যই অল্প পানিতে নামা উচিত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!