বৃহস্পতিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় সংঘর্ষ চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায় পুলিশকে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, গুলিবিদ্ধ দুজনসহ ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর।
.png)
আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- আরেফিন শুভ, মোহাম্মদ মোরশেদ, সাইদ, শুভ, হিমাদ্রী, মোহাম্মদ মাহিন, মিনহাজুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, মোহাম্মদ মামুন, আদনান শরীফ, রাকিব শাহরিয়ার ও হোসেন সোহরাওয়ার্দী। তাদের মধ্যে হোসেন সোহরাওয়ার্দী ব্যবসায়ী, মোরশেদ রিকশাচালক, হিমাদ্রী ও মোহাম্মদ ইলিয়াছ পথচারী, আদনান শরীফ ডেলিভারি ম্যান বলে জানা গেছে। বাকিরা সবাই শিক্ষার্থী। ইসমাইল ও ইলিয়াছ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন- দৈনিক কালবেলার চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ সাইদুল ইসলাম, দীপ্ত টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ লতিফা আনসারি রুনা, দৈনিক বণিক বার্তার চট্টগ্রামের ডেপুটি ব্যুরো চিফ সুজিত সাহা, দ্যা ডেইলি স্টার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ সুমন।
এছাড়া চাঁদগাও থানার ওসি জাহিদুল কবিরসহ সব মিলিয়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্যও। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেউ কেউ আবার বেসরকারি হাসপাতাল ও স্থানীয় ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নগরের শাহ আমানত সেতু এলাকায় অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ। আন্দোলনকারীরাও ইট নিক্ষেপ করেন।
একপর্যায়ে একটি বাস ভাঙচুর করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নেন। এ ঘটনায় পথচারীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাকলিয়া সরকারি কলেজের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। এ সময়ও পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।
সেই ঘটনার পর দুপুর দেড়টার দিকে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এবং ট্রাফিক পুলিশবক্স সংলগ্ন রাস্তায় জড়ো হতে থাকেন আন্দোলকারীরা। সেখানে আগে থেকে অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আন্দোলকারীরারা জড়ো হতে থাকলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনকারীদের নানা স্লোগানের একপর্যায়ে সেই এলাকাটিও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।