অভিযুক্ত সন্তানরা হলেন- লিটন (৫০), আবুল হোসেন (৪০), মোখলেছ (৩৫)। গত মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেন ভূইয়ার ছেলে ধন মিয়া। তার দুই সংসার। দুই সংসারে ৮ ছেলে ও ৭ মেয়ে রয়েছে। ১২ বছর আগে ১ম স্ত্রীর মৃত্যু হয়। বর্তমানে ধন মিয়া ২য় স্ত্রীকে নিয়েই সংসার করছেন। ২৫ বছর আগেই ১ম স্ত্রীর সংসার আলাদা করে দেন ধন মিয়া। ওই সংসারে ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে রয়েছে। ২য় স্ত্রীর ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে। ১ম স্ত্রীর মৃত্যুর পর বাধে বিপত্তি। শুরু হয় সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে দ্বন্দ্ব।
.png)
জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা বন্ধ করতে, একাধিকবার নির্যাতনের বিচার এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের শরণাপন্ন হলেও কোনো সমাধান পাচ্ছে না পরিবারটি।
বাবা ধন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমি জমি বিক্রি করে বড় স্ত্রীর-সন্তানদের প্রবাসে পাঠিয়েছি। তারা আমার কোনো খোঁজ রাখে না। বরং সম্পত্তি লিখে নিতে আমাকে কয়েক দফায় মারধর করেছে। আমি থানা পুলিশের আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেখান থেকে মীমাংসা করে দিলেও আমার প্রথম পরিবারের সন্তানরা বিচার মানে না। আমার ছোট ছেলে জাফরনগর প্রাইমারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার নাম মোখলেছ। সে আমাকে মারধোর করেছে। আমি ২৮ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছি। আমি আমার ছেলের বিচার চাই।
২য় পরিবারে সন্তান কুতুবউদ্দিন বলেন, আমার বাবাকে তার ১ম স্ত্রীর সন্তানরা মারধর করে সম্পত্তির জন্য। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে দায়ের কোপ দিয়ে জখম করে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী ধন মিয়ার ২য় স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, সম্পত্তির ভাগ নিতে আমাকে ও আমার স্বামীকে মারধর করে তার ১ম স্ত্রীর সন্তানরা। আমার ভাত খাওয়ার থালাটা পর্যন্ত তারা কেড়ে নিয়ে গেছে। তাদের অত্যাচারে বাড়িতে থাকতে পারছি না। আমি তাদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছেলে মোখলেছুর রহমান বলেন, আমার বাবার বয়স হয়েছে। তার ২য় স্ত্রীর পরিবার বাবাকে জিম্মি করে আমাদের সব সম্পত্তি লিখে নিয়েছে। তাদের অভিযোগ মিথ্যা। উল্টো বাবার ২য় স্ত্রীর সন্তানরা আমাদের মারধর করে। আমি কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া বলেন, ধন মিয়া সম্পর্কে আমার চাচা হন। আমরা সামাজিকভাবে তার দুই পরিবারকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ধন মিয়া তার সম্পত্তির বেশিভাগ অংশই তার ২য় স্ত্রীর পরিবারের সন্তানদের দিয়ে দিয়েছেন। পরে সামাজিকভাবেও ভাগ বাটোয়ারা করে দিয়েছি। ধন মিয়া চাইলেই এর সমাধান হয়ে যেত। ভাইদের মধ্যে বিবাদ রয়েছে, তবে ১ম স্ত্রীর সন্তানরা তার বাবা-মাকে মারধর করেছে বিষয়টি আমার জানা নেই।
ভৈরবের (কুলিয়ারচর সার্কেল) এএসপি দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাবাকে মারধরের একটি অভিযোগ পেয়েছি। ধন মিয়ার দুই সংসার। তার দুই পরিবারই কোর্টে মামলা করেছে। ভৈরব থানায় তাদের নিয়ে সমাধানও হয়েছে। কিন্তু কেন তারা আবার বিবাদে জড়াচ্ছে আমি জানি না। বাবা জীবিত আছে তাই তিনিই এর সমাধান দিতে পারবেন। তিনি সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।