কৃষকরা জানান, উপজেলায় বন্যাসহ প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না থাকায় এবার আগে ভাগেই রোপা আমন চারা লাগানো শুরু হয়েছে। তবে এবার ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় সুযোগে আবাদি জমিতে বাড়তি পানি সেচ দিতে হচ্ছে না।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রোপা আমন মৌসুমে লোহাগড়া উপজেলায় ৭০৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বীজতলা তৈরি করা হয়ে গেছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১১ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতি রোপা আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ১১ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়ে ছিল। এ বছর ২৫ হেক্টর বেশি জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। গত আমন মৌসুমে লোহাগড়া উপজেলায় ধানের ভালো ফলন হয়েছিল। কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্যও পেয়েছেন।
.png)

মরিচ পাশা মাঠে আমন চারা লাগানো কৃষক মো. রিপন সরদার জানান, এক মাস আগে আমন ধান বীজ তলায় ছিটানো হয়। এই বীজের চারা যখন প্রায় এক ফুট উচ্চতা হয়, তখন সেই চারা তুলে পুনরায় অন্য জমিতে রোপণ করা হয়।
মরিচ পাশা গ্রামের কৃষক তুহিন, মিন্টু, তাহের ও নাজির জানান, দোগছি করলে চারার দণ্ড মোটা হয়। ৮-১০টি চারা থেকে কমপক্ষে ৪০-৫০টি গাছ গজায় এবং দোগছির চারা জমিতে রোপণ করলে চারা সাশ্রয় ও চারার গোঁজ মোটা হয়। ধানের শীষ লম্বা হয়, পোকার আক্রমণসহ ধান গাছে নানা বিধ রোগবালাই দেখা না দিলে দোগছি ধানের ফলনও ভালো পাওয়া যায়।
উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের মরিচ পাশা গ্রামের মো. লিন্টু ঠাকুর বলেন, আমি জমিতে লাইন করে রোপা আমন ধানের চারা লাগাচ্ছি। আর এ বিষয়ে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার জানান, এখানকার কৃষকরা রোপা আমন ধান আবাদে অনেক অভিজ্ঞ। তাই বৃষ্টির পানি পেয়ে যথারীতি রোপা আমন ধানের চাষাবাদ শুরু করেছেন। এরই মধ্যে আবাদি জমিতে রোপা আমন ধানের চারা রোপণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এবারো রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাযর্ক্রম শুরু করেছি। রোপা আমন ধানের চাষাবাদে কৃষকদের ও আগ্রহ বেশি। এতে ব্যয় কম হলেও ধান উৎপাদন ভালো হয়। এ ছাড়াও আমরা কৃষকদের অধিক ফলনশীল ধান চাষের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করে আসছি।