লোহাগড়ায় জমজমাট ধানের চারার হাট
চলছে রোপা আমনের মৌসুম। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লোহাগড়া হাটে রোপা আমন ধানের চারা বেচা-কেনা জমে উঠেছে। লোহাগড়া সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ জুড়ে বসে ধানের চারার হাটটি। এ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা সকাল থেকেই আসতে শুরু করে। বর্তমানে রোপা আমন ধানের চারার দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকায় ক্রেতারাও বেশ খুশি।
লোহাগড়ার হাট ঘুরে দেখা গেছে, রোপা আমন ধানের চারা কিনতে বহু দূর-দূরান্ত থেকে কৃষকরা এসেছেন। লোহাগড়াসহ আশ-পাশের জেলার বেশিরর ভাগ এলাকায় এখন চলছে রোপা আমন ধান লাগানোর ভরা মৌসুম। তবে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে এ অঞ্চলের কৃষকরা রোপা আমন ধান চাষ করে থাকেন। বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকায় এ অঞ্চলে রোপা আমন ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন কৃষকরা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা এখন জমিতে রোপা আমন ধান লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রোপা আমন ধানের চারা কিনতে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ছুটছেন লোহাগড়ার ধানের চারার হাটে।
বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, নিচু জমিতে বর্ষার পানি জমে থাকার কারণে অনেক এলাকায় ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব হয়নি। তাই এই হাটে এসে চাহিদা অনুযায়ী উন্নত মানের ধানের চারা ক্রয় করছেন। এতে লাভবান হচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই।
.png)
উপজেলার জয়পুর ইউপির আমডাঙ্গা গ্রামের কৃষক ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, আমি উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে বিএডিসি অফিস থেকে ৪৫ কেজি আমন ধান সংগ্রহ করে ১৫ শতক জমিতে বীজ ছিটিয়েছিলাম। এতে যে চারা হয়েছে তা দিয়ে আমার ১ একর ২০ শতক জমিতে চারা রোপণ করে বাকি চারা আমি ৫ হাজার টাকা বিক্রয় করেছি এবং আমি আরো ৫ হাজার টাকার চারা বিক্রি করতে পারবো।
লোহাগড়া হাটে আসা কাশিয়ানী উপজেলার শংকর পাশা গ্রামের কৃষক লাভলু মুন্সী বলেন, এ হাটের ধানের চারা ভালো এবং দাম ও কমে কিনতে পারা যায় তাই এসেছি। প্রতি বছর এখান থেকে চাহিদা ও পছন্দ মতো ধানের চারা কিনে জমিতে রোপণ করি।
লোহাগড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, এখন রোপা আমনের মৌসুম। আমাদের এখানে সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুই দিন হাট বসে। এ ধান চারার হাটটি বসে লোহাগড়া সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে। তবে অন্য বারের চেয়ে এবার যেন ধানের চারার হাট আরো জমজমাট হয়েছে। এ হাটে দূর-দূরান্ত থেকে কৃষকরা আসে তাদের পছন্দ মত ধানের চারা কিনতে।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার বলেন, চলতি রোপা আমন মৌসুমে লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১১ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের সঠিক ভাবে বীজ উৎপাদনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আমরা বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে ধানের বীজ সংগ্রহ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন ভাবে কৃষকদের সহযোগিতা করে থাকি।