ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বাঁচানো গেল না আন্দোলনে আহত স্কুলছাত্র মাহিমকে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৫৮, ২১ আগস্ট ২০২৪
বাঁচানো গেল না আন্দোলনে আহত স্কুলছাত্র মাহিমকে
আহাজারি থামছে না মা রেহানা বেগমের। ইনসেটে মাহিম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এক দফা দাবি নিয়ে মিছিলে গিয়েছিলেন দশম শ্রেণির ছাত্র মাহিম হোসেন। পুলিশের টিয়ারশেলের ধোয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। হাসপাতালে চলছিল চিকিৎসা। তবে সুস্থ করা যায়নি মাহিমকে। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রক্ত বমি আর শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যান তিনি। বিকেলে গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। 

এদিকে মা রেহানা পুত্রশোকে শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা যেন কেউ খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বামন পাড়া গ্রামের ইব্রাহীম হোসেনের বড় ছেলে স্কুলছাত্র মাহিম হোসেন (১৭)। চাঁদট গ্রামের ইয়াকুব আহমদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। 

Advertisement

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে আন্দোলনের মাঠে নামেন মাহিম। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ছোট ফুপু রহিমার উৎসাহে ৪ আগস্ট মিছিলে যোগ দিতে উপজেলা সদরে যান। কিন্তু সেখানে পুলিশের বাধার মুখে সঙ্গীদের ছেড়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে বাসে উঠেন। পাশের উপজেলা কুমারখালীতে গিয়ে বাস থেকে নেমে আবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এ সময় পুলিশের ছোড়া মুহুর্মুহু কাঁদানি গ্যাসের মধ্যে পড়েন মাহিম। স্থানীয় কয়েকজন নারী তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে সহায়তা করেন। তবে বাড়ি ফিরে আর স্বাভাবিক হতে পারেননি মাহিম। তার মুখে ও শরীরে জ্বালা-যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শনিবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে প্রচণ্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। 

সোমবার (১৯ আগস্ট) রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে মারা যান তিনি। বিকেলে গ্রামের বাড়ি পৌঁছায় মাহিমের মরদেহ। পরে ইয়াকুব আহমদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে চাঁদট কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত মাহিমের গ্রামের সহযোদ্ধা জুয়েল ও রফিক জানান, আন্দোলনের শুরু থেকে মাহিম তাদের গ্রুপে ছিল। অন্য ছেলেদের মতো সেও বাড়িতে না জানিয়ে জেলা ও থানা সদরের কর্মসূচিতে অংশ নিতো। সহকর্মীর মৃত্যুতে তারা চরম ব্যথিত।

নিহত মাহিমের ফুফু রহিমা বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, দেশ স্বাধীন করতে শহিদ ভাইদের ডাকে আমার সোনা মিছিলে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আমাকে সব ঘটনা জানিয়েছিল। কিন্তু এতটা অসুস্থ তা বুঝতে দেয়নি।

নিহতের বাবা ইব্রাহিম হোসেন জানান, গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে তার ছেলে আন্দোলন করেছে। উপজেলা সমন্বয়করা তার সঙ্গে ছিল। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!