বন্যা: রামুতে শিশুসহ দুজনের মৃত্যু, নিখোঁজ আরো ২ জন
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে শিশুসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুজন। তাদের সন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কাসেম।
মৃতরা হলেন- গর্জনিয়া ইউপির পূর্ব জুমছড়ি গ্রামের ছৈয়দ হোসেনের ছেলে আমজাদ হোসেন (২২) ও ফতেখাঁরকুল ইউপির লম্বরিপাড়ার বাসিন্দা নুরুল কবিরের ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে।
.png)
নিখোঁজ রয়েছেন- রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব জুমছড়ি গ্রামের ছালেহ আহমদের ছেলে রবিউল আলম (৩৫) ও রামুর ঈদগড় এলাকার স্থানীয় কৃষক সাচিং মারমা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে রামুতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ২৩ হাজার মানুষ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, তাতে নদীর দুই তীরের ৩০টির বেশি গ্রামের ১ হাজার ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন শিশুসহ দুজন। এখনো নিখোঁজ আরো দুজন। ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘরে ঘরে খাবার ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বেলা ১১টার দিকে বন্যার পানিতে ভেসে যান রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দুজন। এর মধ্যে আমজাদ হোসেনের মরদেহ পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন রবিউল আলম।
এদিকে, দুপুরে রামুর ঈদগড় খালে ভেসে নিখোঁজ হয়েছেন স্থানীয় কৃষক সাচিং মারমা ও রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লম্বরিপাড়ার ১০ বছর বয়সী এক মেয়েশিশু। বিকেল ৪টার দিকে শিশুটির মরদেহ বাঁকখালীর নদীর তীরে পাওয়া গেলেও সাচিং মারমা নিখোঁজ রয়েছেন।
রামুর ইউএনও রাশেদুল ইসলাম জানান, বিকেল ৫টার দিকে এক শিশু ও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে কাজ চলমান রয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৩৫ মিলিমিটার। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।