ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টাকা পেলেই ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলের জাল দলিল দেন তিনি

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩৩, ২৩ আগস্ট ২০২৪
টাকা পেলেই ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলের জাল দলিল দেন তিনি
জাল দলিল। প্রতীকী ছবি

মোটা অঙ্কের টাকা পেলেই একের পর এক তৈরি করেন জাল দলিল। ব্রিটিশ থেকে পাকিস্তান অথবা ৩০ বছরের পুরোনো দলিল মিলছে টাকা দিলেই। শুধু যে জাল দলিলই নয় সিএস, এসএ রেকর্ড মোতাবেক ডিগ্রির ভুয়া কাগজ তৈরির সঙ্গেও সম্পৃক্ত জাহিদ মোল্লা (৬৫)। এমন অন্তত চারটি জাল দলিল নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। 

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) জহিদ মোল্লাকে অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার বিক্রি করা জাল দলিলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছয় ব্যক্তি। তারা হলেন- চলনালী গ্রামের ফারুক সরকার, আফাজ উদ্দিন আলহাজ, স্কুল শিক্ষক বজলার রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, পাঁচশিশা গ্রামের আব্দুস সামাদ এবং দাদুয়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম।

জাল দলিলপত্র তৈরি চক্রের সদস্য মো. জাহিদ মোল্লা গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামের মৃত ফেলা মোল্লার ছেলে। 

Advertisement

লিখিত ঐ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালের ২৯ মের তারিখের ২২১৯ নম্বর, একই তারিখের ২২১৪ নম্বর, ১৯৬৯ সালের ১১ নভেম্বর তারিখে ২৭৬৩২ নম্বর, ১৯৭০সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখের ৬৬২৮ নম্বর দলিল এবং ১২৬/৬৭ নম্বরের একটি মামলা দেখিয়ে ডিগ্রির জাল কাগজ তৈরি করা হয়েছে। গত তিন বছরের মধ্যে তৈরি করা এসব জাল কাগজ নিয়ে বর্তমানে আদালতে একাধিক মামলা চলছে।

জাল দলিল তৈরির ছলে বিষয়টি নিয়ে এক অনুসন্ধানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জাল দলিল তৈরির কথা স্বীকার করে চক্রের সদস্য জাহিদ মোল্লা বলেন, বলেন, আমি আশপাশের চলনালী, পাঁচশিশা, ধারাবারিষা, সিধুলী, চরকাদহ ও দাদুয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের অনেক লোককে পাকিস্তান ও ব্রিটিশ আমলের দলিল তৈরি করে দিয়েছি। সবগুলোর মামলা চলছে। পাকিস্তান আমলের দলিলের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার আর ব্রিটিশ আমলের দলিল করতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিই। 

তিনি আরো বলেন, নাটোরের একটি চক্রের সদস্য হিসেবে দলিল তৈরির কাজ করি। 

অভিযোগকারী ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ বলেন, গুরুদাসপুর পৌর শহরের বাসিন্দা শ্রী রাধা রমন কুন্ডুকে দাতা উল্লেখ করে পাঁচশিশা গ্রামের সমতুল্লা শাহর নামে ১৯৬৯ সালের ১১ নভেম্বর তারিখে ২৭৬৩২ নম্বরের যে দলিল প্রকাশ পেয়েছে-বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে ওই দলিলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। 

তিনি আরো বলেন, তারা রাধা রমন কুন্ডুর কাছ থেকে বিক্রি কবলা দলিলমূলে ভোগ দখলে আছেন। অথচ জাল দলিল দেখিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন প্রতিপক্ষরা। মূলত ৬৯ সালে ২৭৬৩২ নম্বরের কোনো দলিল রেজিস্ট্রি হয়নি। অভিযুক্ত জাহিদ মোল্লা টাকার বিনিময়ে দলিলটি তৈরি করে দিয়েছেন।

আরেক ভুক্তভোগী ফারুক সরকার বলেন, সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডে নাম থাকা সত্তেও ১২৬/৬৭ নম্বরের একটি মামলা দেখিয়ে ডিগ্রির জাল কাগজ তৈরি করেছেন জাহিদ মোল্লা। পাকিস্তান আমলের দলিল তৈরিতে ২ লাখ ৫০ হাজার এবং ব্রিটিশ আমলের দলিল তৈরি করতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেন তিনি।

স্কুল শিক্ষক বজলার ও আফাজ উদ্দিন আলহাজ বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে একের পর এক জাল দলিলপত্র তৈরি করছেন জাহিদ মোল্লা। একারণে গত তিন বছরে এসব জাল দলিল নিয়ে অন্তত ১০ জন আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। তারা জাল দলিল তৈরি চক্রের সদস্য জাহিদ মোল্লা বিচার দাবি করেন।

ভূমিহীন আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চলনালী মৌজার আরএস ৮৫ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ১৪৭০, ১৮৩৭ ও ১৮৩৯ নম্বর দাগের সোয়া ২৬ শতাংশ জমি রেকর্ডীয় মালিক আয়েশা বিবি ২০১৩ সালে নাতি মনিরুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন ১৪৬৬ দলিলে। এসব জমির মধ্যে থেকে ২০২৩ সালে ১৮৩৭ ও ১৮৩৯ নম্বর দাগের ৫ শতাংশ জমি ২০৪৪ দলিলে মনিরুলের কাছ থেকে ক্রয় করেন তিনি। বছরখানেক আগে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী মুন্নাফ একটি জাল দলিল দেখিয়ে তাকে সরিয়ে দেন। ওই দলিলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জাহিদ মোল্লা বলেন, জাল দলিল তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তাকে অন্যায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

গুরুদাসপুর থানার ওসি উজ্জল হোসেন বলেন, জাল দলিল তৈরির বিষয়ে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: অনিয়ম নাটোর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!