ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
নোয়াখালী

খাদ্য সংকট-সাপ আতংকে দিশেহারা বন্যাদুর্গতরা

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪০, ২৫ আগস্ট ২০২৪
খাদ্য সংকট-সাপ আতংকে দিশেহারা বন্যাদুর্গতরা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের সংকট। এছাড়াও সাপের উপদ্রবের কারণে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন বন্যাদুর্গতরা।

রোববার দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম বলেন, গত তিনদিনে নোয়াখালীতে ৬৩ জনকে সাপে কেটেছে। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাপে কেটেছে ২৮ জনকে। বন্যার কারণে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১০৮ জন।

সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা মো. আবুল খায়ের জানান, ফেনীর মুহুরী নদীর উজানের পানি প্রবেশ করায় নোয়াখালীর সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী উপজেলার কিছু নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক জায়গায় ঘরবাড়ি ও সড়ক তলিয়ে গেছে। স্কুলে ঢুকে পড়েছে পানি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট।

Advertisement

কবিরহাটের বাসিন্দা ফরমান হোসেন বলেন, বন্যা ও ভারী বর্ষণের কারণে কবিরহাটের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এদিকে, দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষরা কাজ করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কর্মহীন মানুষরা সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন সরকার ও বিত্তশালীদের কাছে।

নোয়াখালীর আবহাওয়া অধিদফতরের উচ্চ পর্যবেক্ষক আরজুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের পানির কারণে বন্যার পানি বাড়ছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। প্রতিটি বাড়িতে ৩ থেকে ৫ ফুট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে যার পরিমাণ ৬ থেকে ৭ ফুট। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার রাত পর্যন্ত অনেকে খাটের ওপর অবস্থান করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্র, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। রান্না ও বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় খাবার সংকটে রয়েছেন বেশির ভাগ মানুষ। জেলার প্রধান সড়কসহ প্রায় ৮০ ভাগ সড়ক কয়েক ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বেশিরভাগ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কগুলোতে যান চলাচল অনেকটাই কম।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলার মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। এসব উপজেলায় এরমধ্যে ৮২৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১ রাখ ৫৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসন ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে আমি বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে আছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: নোয়াখালী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!