‘১৭-১৮ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে দল, এবার কিছু ছাড়েন’: অডিও ভাইরাল
‘অনেক নিয়োগ দিয়েছেন। এবার কিছু ছাড়েন। আমরা ১৭-১৮ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। কে কি করেছেন, সব লিস্ট করে রেখেছি। কয় টাকা কে কামাই করেছেন জানতে চাই না, ছেলে-পেলে আনন্দ করবে দুই-চার ৫০ হাজার টাকা আপনার দেওয়া লাগবে’- এভাবেই ফোনে স্কুলের এক প্রধান শিক্ষককে কথাগুলো বলছিলেন, সদ্য বরখাস্ত যুবদল নেতা কামরুজ্জামান রাজা।
কামরুজ্জামান রাজা বগুড়ার কাহালু উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তবে এ ঘটনার পর তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার (২৫ আগস্ট) বগুড়া জেলা যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক শাহাদত হোসেন সোহাগের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে কামরুজ্জামান রাজা ৪ বছর আগে কাহালু উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন। সম্প্রতি আবারো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিতর্কিত রাজাকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার নির্দেশ দেন বগুড়া জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খাদেম ও যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম।
.png)
বিজ্ঞপ্তিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়, যুবদল সংশ্লিষ্ট কেউ কামরুজ্জামান রাজার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রাখলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, সম্প্রতি কাহালু উপজেলার মুরইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের মোবাইলে কল করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন কামরুজ্জামান রাজা। সেই চাঁদা দাবিকৃত সময় কল রেকর্ড ফেসবুকে ছড়ানো হয়। সেই রেকর্ডে চাঁদা দাবির সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে।
প্রধান শিক্ষককে কল করে কামরুজ্জামান রাজা বলছিলেন, ‘অনেক নিয়োগ দিয়েছেন। এবার কিছু ছাড়েন। আমরা ১৭-১৮ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। কে কি করেছেন, সব লিস্টে রেখেছি। কয় টাকা কি কামাই করেছেন জানতে চাই না, ছেলে-পেলে আনন্দ করবে দুই-চার ৫০ হাজার টাকা আপনার দেওয়া লাগবে।’
এ সময় প্রধান শিক্ষক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলছিলেন, ‘তুমি আমার ছাত্র, বেশি কিছু বলবো না। আমরা কতগুলো মামলা খেয়েছি সেটা তো জানো। আমি কি নিয়োগ দিতে পারি? নাকি সভাপতি দেয়। ওই ধরনের ইনকাম আমি করিনি। যদি কেউ আমাকে দিয়ে থাকে তখন আমাকে বলবা।’
পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে রাজা বলছিলেন, ‘আপনি তাহলে এগুলো মনে রাখবেন। যখন আপনি আমাকে বলবেন আবার এগুলো হচ্ছে কেন! আপনি কোথায় মামলা খেয়েছেন, কোথায় কি করেছেন, সবই জানি।’
এ বিষয়ে কামরুজ্জামান রাজা বলেন, ‘শত্রুতার জেরে আমার ভয়েজের মতো করে কথপোকথন রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে। এ ঘটনাটি মিথ্যা ও সাজানো। এই কারণে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেছে।’