মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে গেলে, তিনদিন ধরে বাড়ির বাইরেই মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় ভুক্তভোগীকে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা) প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি।
এর আগে, গত রোববার সকাল ৯টা থেকে সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজিরচওরা গ্রামের ব্যবসায়ী এন্তাজ আলীর ছেলে প্রেমিক ইমরানের বাড়িতে অনশন শুরু করেন ওই প্রেমিকা।
.png)
জানা যায়, চার বছর আগে একই কলেজে পড়ার সময় ইমরানের সঙ্গে দেখা ওই ছাত্রীর। সেই পরিচয়ের পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড় ওঠে। এরইমধ্যে প্রেমিক ইমরান তার ওই কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ান। পরে ইমরানকে বিয়ের চাপ দিলে আজ-কাল বলে কালবিলম্ব করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রেমিকা রোববার সকালে বিয়ের দাবিতে ইমরানের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। ওই সময় বাড়িতে ইমরানকে দেখতে পেয়ে তাকে জরিয়ে ধরে তাকে বিয়ে করতে বলেন। তবে ইমরানের দুই বোন ও বাবা তাকে বেধরক মারপিট করেন। পাশাপাশি বাড়ির লোকজন ইমরানকে বাড়ি থেকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন।
এ সময় প্রেমিকার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ, ব্যাগে থাকা বিভিন্ন সার্টিফিকেট, তার বাবা-মায়ের ভোটার আইডি কার্ড ও মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেন তারা। পরে তারা প্রেমিকার মোবাইল ফোনে প্রেমিক-প্রেমিকার গোপন সব প্রমাণপত্র নষ্ট করে ফেলেন।
ওই ওয়ার্ডের মেম্বার আজিজুল ইসলাম জানান, তিনদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। আজ রাতে আবার বিষয়টি নিয়ে বসার কথা রয়েছে। আশা করছি, আজকে একটা সমঝোতা হয়ে যাবে। সমঝোতা না হলে আইনের আশ্রয় নিতে পারবে মেয়েপক্ষ।
এ বিষয়ে প্রেমিকের বাবা এন্তাজ আলী বলেন, ‘মেয়েটি আমার বাড়িতে আসার পর আমার ছেলে তাকে বিয়ে করতে রাজি ছিল। এ জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হয়। কিন্তু মেয়েটির পরিবারের কোনো লোকজন না আসায় পরে আর বিয়ে হয়নি। তাই আমরা মেয়েটিকে আমার বোনের বাড়িতে রাখা হয়েছে।’
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।