মুন্নী আকতার ফটিকছড়ি পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের জামাল বেপারি বাড়ির মোহাম্মদ ফোরকানের স্ত্রী। কিছুদিন আগে তার স্বামী অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাদের দুটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট রাতে প্রসববেদনা উঠলে গৃহবধূ মুন্নী আকতারকে ফটিকছড়ির নাজিরহাট এলাকার সেন্ট্রাল পার্ক হসপিটালে নেয়া হয়। ঐ রাতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন তিনি। পরবর্তীতে তাকে গুরুতর অসুস্থ দাবি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
.png)
সেখানে দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মুন্নীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিবারের সদস্যরা সেন্ট্রাল পার্ক হসপিটাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হলে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালটিতে হামলা চালায়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানা পুলিশের সদস্যরা গিয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মুন্নী। সেখানে রোববার সকালে মারা যান।
এদিকে, ভুল চিকিৎসার অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরেফিন আজিমকে আহ্বায়ক ও ডা. মনীষ সাহা রায়কে সদস্য সচিব করে গঠিত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ডা. শামীমা আক্তার ও ডা. রানা দে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
মুন্নী আকতারের চাচাত ভাই মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণে আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। তদন্তপূর্বক আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা উন্মোচন করা হবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. আরেফিন আজিম বলেন, তদন্ত কমিটি তদন্তপূর্বক সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু হাসপাতালটির সংশ্লিষ্ট সবাই পলাতক রয়েছেন। এ অবস্থায় গৃহবধূর জানাজা শেষে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমরা তদন্ত এগিয়ে নেব।