মুহূর্তেই বিলীন প্রবাসীর শখের বাড়ি
সম্প্রতি ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার ধলীয়া খালের তীরবর্তী মন্তু চৌধুরী পাড়া এলাকায় ভাঙনে বসত ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একটি ভবনের ৫টি কক্ষ সম্পূর্ণভাবে ধসে দেবে গিয়ে পার্শ্ববর্তী ধলিয়া খালে বিলীন হয়ে যায়। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভবনের মালিক মো. শাহাজাহান। তিনি দুই বছর আগে নিজের সঞ্চিত অর্থ ব্যায় করে শখ করে বাড়ি নির্মাণ করে স্বপরিবারে এ এলাকায় বসবাস করেন। গত কিছুদিন আগে সৃষ্ট বন্যায় পুরো ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে ধলিয়া খালে বিলীন হয়ে যায়।
বাড়ি মালিক প্রবাসী শাহাজাহান আক্ষেপ করে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সবাই তখনো ঘুমে ছিলাম। ক্রমাগত বৃষ্টি। আমার জীবদ্দশায় এমন বৃষ্টি এবং পানি দেখিনি। রাতে ঘুমাতে পারিনি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দেয়ালে ফাটল ধরেছে। মূহূর্তের মধ্যেই পরিবারের অন্যন্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরপরই নিজের চোখের সামনে স্বপ্ন ভেঙে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। ঘরে থাকা যাবতীয় মালামাল সরানোর সময় পাইনি। দূর থেকে দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কিছুই করার ছিল না। শখের বাড়িটি গিলে খেল ধলিয়া খালে।
.png)
বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে আমার। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লেগে যাবে।
তিনি আরো বলেন, ক্ষতি যা হওয়ার তো হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ক্ষতি না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ এলাকায় ধলীয়া খালের পার্শ্ববর্তী প্রায় ৩০টি পরিবারের বসবাস সবাই ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। প্রতিটা পরিবারের বসত বাড়ির কিছু না কিছু অংশ ধলিয়া খালে বিলীন হয়ে গেছে। যখন বেশি পরিমাণ বৃষ্টি হয় তখন শঙ্ককায় ও ভয়ে রাত কাটে তাদের।
ওই এলাকার ওহাব মিস্ত্রি বলেন, এ এলাকায় প্রতি বছর ধলীয়া খালে ভাঙন হয়। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রক্ষা পেতো নদীর সীমান্ত ও তৎসংলগ্ন বসবাসকারী লোকজন।
সেলিম জানান, এমন ভাঙন দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকে না। ভাঙন ঠেকাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এ পরিবারগুলো নিরাপদে বসবাস করতে পারতো।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তী বলেন, ধলীয়া নদীর খুব কাছাকাছি বসবাসরত লোকদের সাবধানে বসবাস করতে হবে। বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থান নির্বাচন করে তা নির্মাণ করতে হবে।