ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

‘আবু সাঈদকে টার্গেট করে গুলি চালায় পুলিশ’

রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৫৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
‘আবু সাঈদকে টার্গেট করে গুলি চালায় পুলিশ’
আবু সাঈদ -ফাইল ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে আবু সাঈদকে টার্গেট করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবু সাঈদ হত্যা মামলার প্যানেল আইনজীবী রোকনুজ্জামান।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর নগরের কোট ক্যাম্পাসের আইনজীবী ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান মামলার প্যানেল আইনজীবী রোকনুজ্জামান।

তিনি বলেন, ১৫ তারিখ রাতে আন্দোলন থেকে সরে আসার জন্য আবু সাঈদকে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মারপিট করেন। এছাড়াও তাজহাট থানার পুলিশ কয়েকজন সমন্বয়কের তালিকা করেছিলো। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহিদ আবু সাঈদ। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাখতে টার্গেট করে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এই আইনজীবী বলেন, এই হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্য গ্রেফতার হলেও বাকিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ১১ জুলাই আবু সাঈদসহ কয়েকজন সমন্বয়ক তাজহাট থানায় কাজে গেলে ওই থানার কয়েকজন উপ-পরিদর্শক নিজেরা কথা বলছিলেন, ‘যেকোনো মূল্যে আন্দোলন থামাতে হবে’। এমনটা পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আলোচনা হচ্ছিল। এটা সেখানে থাকা ছাত্ররা দেখেছেন।

রোকনুজ্জামান দাবি করেন, আবু সাঈদকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে গুলি করা হয়। আন্দোলন দমাতে বেশ কয়েকজন সমন্বয়কের তালিকা করেছিল পুলিশ। তাদের নাম ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশের বিভিন্ন গ্রুপে। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আবু সাঈদ।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী গত ১০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেছিলেন, সাঈদ হত্যার ঘটনায় যত বড় পুলিশ কর্মকর্তাই জড়িত থাক তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ আছে তারা কিন্তু কখনোই পার পাবেন না।

এদিকে, পরিকল্পিত এই আন্দোলন দমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরকেও দায়ী করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

তারা বলেছেন, এই হত্যার দায় তাদেরকেও নিতে হবে। ক্যাম্পাসের গেটে দাঁড়িয়ে পুলিশ আমাদের গুলি করলো, তার দায়ভার অবশ্যই প্রক্টরিয়াল বডি এবং ভিসিকে নিতে হবে। আবু সাঈদ হত্যা মামলাটি দ্রুত তদন্ত করে সবাইকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেরোবির শিক্ষার্থী ও অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ ও আবু সাঈদের পরিবার আলাদ দুটি মামলা করেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!