আদিবাসী ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হৃদয় বাগদির নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, ‘খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে আদিবাসী জুম্বনদের ওপর হামলা, মন্দির, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের অফিসে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ও খাগড়াছড়ি সদরে এলোপাতাড়ি গুলিতে তিন জন এবং রাঙ্গামাটিতে একজনসহ ৪ জন আদিবাসী জুম্মনকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে’উপজেলাধীন বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশ স্থলে গিয়ে শেষ হয়।
.png)
কর্মসূচিতে বগুড়া জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার পাল, আদিবাসী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেবেকা শরেণ, আদিবাসী ফোরাম বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি বাসুদেব রায়, আদিবাসী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো, আদিবাসী ইউনিয়ন ও ভূমিরক্ষা সংগ্রাম কমিটি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি প্রাণ কুমার তুরী সিং, ক্ষেতমজুর সমিতি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক নিমাই ঘোষ, আদিবাসী ফোরাম বগুড়া জেলা রাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েল বাগদী সহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে নিম্নোক্ত দাবিগুলো হলো:
খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আক্রান্ত জুম্মরাসহ ও দেশের সকল আদিবাসী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিসহ জানমাল নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। জাতিসংঘের অধীনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দিতে হবে। গুলিতে নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। আদিবাসী জুম্মদের ক্ষতিগ্রস্ত, বৌদ্ধ বিহার, দোকান ও বাড়ি-ঘরের মালিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরষদের ক্ষয়-ক্ষতির নিরুপণ করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করে যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করতে হবে এবং বহিরাগত সেটলারদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনক পুর্নবাসন করতে হবে। সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান পূর্বক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহিত আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্র ও আইএলও ১৬৯ নং কনভেনশন অনুসমর্থন ও আইএলও কনভেনশন ১০৭ বাস্তবায়ন করতে হবে। অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষে সময়সূচি ভিত্তিক রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। ভূমি কমিশন আইন ও বিধিমালা দ্রুত কার্যকর করতে হবে।