এভাবেই টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সড়ক দুর্ঘটনার বর্ণনা দেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কচুরিয়া গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে সাগর। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত ক্রাউন রিল্যাক্স বাসের বেঁচে যাওয়া যাত্রী।
সাগর বলেন, রাতে আমি মহাখালী থেকে জামালপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে ক্রাউন ডিলাক্স বাসে রওনা উঠি। শুরু থেকেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন চালক। টাঙ্গাইল যখন আমরা পৌঁছাই তখনও বলছিলাম কালিহাতী রোড সাবধানে পার হবেন কিন্তু তিনি শুনেননি। কিছু দূর এগিয়ে যাওয়ার পরে শুলাকুড়া আসলে হঠাৎ করে একটি বিকট শব্দ হয়, তারপর দেখি একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন।
.png)
জামালপুরের বর্শিবাড়ি এলাকার রাজিয়া বলেন, চালককে বারবার বলার পরেও শুনেননি। জীবনে অনেক গাড়িতে উঠেছি কিন্তু এইভাবে গাড়ি চালাতে কখনো দেখিনি। আমরা যাত্রীরা অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু লাভ হয়নি। আমার পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ, এমন অবস্থায় চিকিৎসা করানোও সমস্যা। আমি একটি গার্মেন্টসে চাকরি করি, ছুটি পেয়ে বাড়ি যাচ্ছিলাম কিন্তু এখন হাসপাতালে চলে এসেছি।
বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে কালিহাতী উপজেলার শুলাকুড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় চারজনের মধ্যে নিহত দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৩) ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মহিষ বায়ান গ্রামের মৃত আ. ওয়াজেদের ছেলে জিয়াউল (৩৫)।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ নান্নু খান জানান, রাত ১টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহগামী একটি বাস ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ময়মনসিংহ লিংক রোডে পৌঁছলে কালিহাতী থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো সাতজন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে এ ঘটনায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে সল্লা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। সকালে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।