গ্রেফতারকৃতরা হলেন- টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড কচ্ছপিয়া করাচিপাড়ার হাসান আলীর ছেলে পারভেজ মোশারফ (১৯) এবং সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড উত্তর লম্বরীর মনির আহমেদের ছেলে নুরুল আফছার (১৯)।
উদ্ধার হওয়া কিশোর মোহাম্মদ হামিম উখিয়া কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের এমআরসি নং-৬১২৪০, ব্লক-ই, সাইড নং-১ এর নুরুল আমিনের ছেলে।
.png)
বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, গত শুক্রবার দুপুরের সময় ভিকটিম জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়। নামাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পথে অপহরণকারী উখিয়া রত্নাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড কোটবাজারের আলী হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম (২৭)- এর সঙ্গে দেখা হয়। সেলিম ভিকটিমকে ফুসলিয়ে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় বেড়াতে নিয়ে যান। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেলে বাড়ি না ফিরলে ভিকটিমের মা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুজি করতে থাকেন।
একপর্যায়ে ৫ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে অপহৃতের মায়ের মোবাইলে ফোন দিয়ে জানায়, তার ছেলে অপহরণকারীদের কাছে আটক আছে। ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন চক্রের সদস্যরা। তাদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা না দিলে অপহরণকারীরা তার ছেলেকে প্রাণে হত্যা করবে মর্মে হুমকি-ধমকি প্রদান করেন।
পরে মোহাম্মদ হামিমের মা বাদী হয়ে এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়। মামলা নং-১৮/৫৪০, তাং-০৭/১০/২০২৪ইং। থানা পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালায়।
গোপন অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের শেষ লোকেশনের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশের আভিযানিক দল ৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় টেকনাফ সদর ইউপিস্থ দক্ষিণ লম্বরী এলাকার অপহরণকারী ফয়সাল (২৮)-এর বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে অপহরণ চক্রের দুই সক্রিয় সদস্য পারভেজ মোশারফ (১৯) ও নুরুল আফছার (১৯)-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ভিকটিম মোহাম্মদ হামিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।