সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা স্হাপনের শেষ মুহূর্তের কাজ। এরমধ্যে প্রতিমার গায়ে তুলির শেষ আঁচড় দেওয়ার পর প্রস্তুত করা হয়েছে পূজার জন্য। এখন চলছে প্যান্ডেলে সাজসজ্জার কাজ। অপরদিকে পূজাকে শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে সব ধরনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তদের বিশ্বাস শরৎকালে আদ্যাশক্তি মহামায়া দূর্গাদেবীর আগমনী বার্তায় ধরণী পুলকিত হয়ে উঠে। তাই দেবী বরণের আগ মুহূর্তে ভক্তদের মাঝে লেগেছে আনন্দের দোলা।
.png)
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তরা মনে করেন দুর্গাদেবী সুখ-শান্তির বার্তা নিয়ে তাদের মাঝে আসেন প্রতি বছর। এবারো দুর্গা মায়ের আগমনে পুরো বিশ্ব যেন শান্তিময় হয়ে উঠে এমনটাই প্রার্থনা তাদের।
জেলা শহরের অর্জুন রায়, লিটন দাস জানান, মায়ের আগমন উপলক্ষ্যে আমরা সবাই বেশ খুশি। পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করেছি। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করব।
জেলা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিশাল সাহা ও রিপন শীল বলেন, আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি কখন আসবে মাহেন্দ্রক্ষণ। মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করব। এবার জগৎ জননী মায়ের কাছে দেশের জন্য দশের জন্য প্রার্থনা করবে মা যেন সব রোগশোক থেকে আমাদের মুক্ত রাখেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পূর্বপাইক পাড়া গগণ সাহাবাড়ি রোড সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার সাহা জানান, এ বছর মায়ের আগমনে আমরা অনেকটাই পুলকিত। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মণ্ডপে প্রতিমা আনা হয়েছে। কিছুটা সাজসজ্জার কাজ চলছে। এখন অপেক্ষা ক্ষণকাল গণনা করা। আমরা পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাড়া-প্রতিবেশীসহ পূজা কমিটির সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করব।
জেলা শহরের শিব মন্দিরের পুরোহিত নন্দ কিশোর চক্রবর্তী ও পন্ডিত প্রবীর আচার্য্য জানান, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী এ বছর দেবীদুর্গা দোলায় আগমন ও হাতিতে গমন করবেন। এ বছর মা যেন বিশ্ববাসীকে সুখে-শান্তিতে রাখেন সেই প্রার্থনা করব।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি সঞ্জীব চন্দ্র সাহা (বপ্পী) জানান, এবার জেলার ৯টি উপজেলায় ৫২৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯৫টি পূজা কমেছে। গত বছর ৬৩০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছিল। এ বছর জেলার মধ্যে পৌরসভাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৭৬টি, নাসিরনগর উপজেলায় ১২৮টি, সরাইল উপজেলায় ৪১টি, কসবা উপজেলায় ৪৫টি, আখাউড়া উপজেলায় ২৫টি, আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৩টি, বিজয়নগর উপজেলায় ৪৫টি, নবীনগর উপজেলায় ১১৪টি ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৩৯টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব।
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন সুলতানা জানান, দুর্গোৎসবটিকে শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের ঝামেলা বা আইনশৃঙ্খলা অবনতির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
আগামী ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিন ব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।