গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি গ্রামের আল আমিন জমির সার্টিফায়েড পর্চার জন্য গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট দফতর বরাবর গত বছরের অক্টোবরে আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট দফতর যথাসময়ে সার্টিফায়েড পর্চা সরবরাহ করার পরপরই ডাক বিভাগ বরাবর রেজিস্ট্রেশন করে প্রাপক আল আমিনের ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়ে দেয়; কিন্তু আল আমিন সেই চিঠি পেলেন ১০ মাস পর।
এরপর ডাক পিয়ন আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে রিসিভ করে দেখি চিঠিতে তারিখ লেখা ১৫ ডিসেম্বর ২০২২। ডাক বিভাগের অবহেলায় আমার চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ২৩ কিলোমিটার দূরত্বের চিঠি পোঁছাতে সময় লাগল ১০ মাস। এটা রীতিমতো আশ্চর্য হওয়ায় মতো বিষয়।
.png)
গাজীপুর শহরের প্রধান ডাকঘরে দেখা গেছে, আগে যেখানে পোস্ট বক্স রাখা ছিল, সেটি আর সেখানে নেই। কারণ সেখানে এখন আর কেউ চিঠি ফেলেন না। ব্যস্ততা নেই তিনতলা বিশিষ্ট নতুন এই ডাকঘরের। কয়েকজন কর্মী কাজ করছেন আপন মনে। শুধু দাপ্তরিক চিঠিপত্র আর নগদের সেবা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ করতে দেখা গেছে।
শুধু প্রধান ডাকঘর নয়, ভূতুরে পরিবেশ দেখা য়ায় চান্দনা চৌরাস্তা, কড্ডাসহ আশপাশের এলাকার পোস্ট অফিসগুলোয়; কিন্তু দুই দশক আগেও রমরমা অবস্থায় ছিল এখানকার পোস্ট অফিস।
গাজীপুর প্রধান ডাকঘরের পোস্টম্যান আবুল হোসেন। বলেন, আগে অনেক চিঠি আসত। এগুলো বস্তায় ভরে বিলি করতাম; কিন্তু এখন ব্যক্তিগত চিঠি কম, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও দাপ্তরিক চিঠি বেশি। আগে এখানে ৫ জন কাজ করতাম, এখন তিনজন আছি। তাই কাজের চাপ বেশি। আমরা যে বেতন পাই, তা খুব সামান্য। টেনে টুনে সংসার চালাতে হয়। এই বেতন দিয়ে আসলে আমাদের চলে না। চিঠি নিয়ে আবেগ আর নানা ঘটনার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা থাকলেও ডাক বিভাগের উদাসীনতায় ভোগান্তির মাত্রাও কম নয়।
গাজীপুরের প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার খায়রুল আলম বলেন, গাজীপুরের ৩ উপজেলায় তিনটি উপজেলা পোস্ট অফিস, ১৬টি সাব-পোস্ট অফিস এবং ১১০টি শাখা পোস্ট অফিস রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে চিঠি আদান-প্রদান ছাড়াও ডাক টিকিট, প্রাইজবন্ড বিক্রি করা হয়। ভেন্ডাররোল, পার্সেল, মানি অর্ডার, ই-মানি অর্ডার করা যায়।