ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রাজবাড়ীতে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় হিন্দু যুবক গ্রেফতার

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:০০, ১১ অক্টোবর ২০২৪
রাজবাড়ীতে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় হিন্দু যুবক গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত রানাপদ সরকার। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর শহরের সজ্জনকান্দায় দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত এক হিন্দু যুবক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোছা. শামিমা পারভীন।

এর আগে, গত ৭ অক্টোবর রাত দেড়টা থেকে ৮ অক্টোবর বেলা ১১টার মধ্যে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ৯ অক্টোবর মণ্ডপ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাধন কুমার দাস বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

গ্রেফতারকৃত রানাপদ সরকার (২৬) রাজবাড়ী সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া গ্রামের রতন কুমার সরকারের ছেলে। তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে দাবি করেন। তিনি তার বাবার সঙ্গে শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

Advertisement

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন বলেন, সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়ায় সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির উদ্যোগে একটি অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরি করা হয়। ওই মণ্ডপে দুর্গাসহ মোট পাঁচটি দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরি করা হয়। গত ৭ অক্টোবর রাত দেড়টা থেকে ৮ অক্টোবর বেলা ১১টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক বা একাধিক ব্যক্তি ওই মণ্ডপের পাঁচটি দেব-দেবীর প্রতিমার অংশবিশেষ ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠে। যা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ৮ অক্টোবর পুলিশ রাজবাড়ী সদর থানায় জিডি করে এবং ৯ অক্টোবর মণ্ডপ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাধন কুমার দাস বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পর থেকেই রাজবাড়ী সদর থানা ও জেলা ডিবি পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার রহস্য উদঘাটনের কাজে নামে। অনুসন্ধান ও তদন্তের একপর্যায়ে ওই পূজা মণ্ডপসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। পর্যবেক্ষণকালে কমলা রঙের টি-শার্ট এবং কালো ট্রাউজার পরিহিত একজন ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি টিম গত বুধবার রাতে শহরের সজ্জনকান্দা এলাকা থেকে রানাপদ সরকারকে গ্রেফতার করে।

পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি একজন অসচ্ছল বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তিনি উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পান। জিজ্ঞাসাবাদে রানাপদ সরকার প্রতিমা ভাঙচুরের দায় স্বীকার করেছেন, যোগ করেন পুলিশ সুপার।

তিনি বলেন, পূজার ফুল সংগ্রহের জন্য ৮ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৫টার সময় মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় যান রানাপদ। ফুল সংগ্রহ শেষে কৌতূহলবশত তিনি ওই মণ্ডপে প্রবেশ করেন। মণ্ডপে প্রবেশের সময় তিনি গণেশের প্রতিমার সঙ্গে ধাক্কা খান এবং ওই প্রতিমার মাথা ভেঙে ফেলেন। ওই সময় তিনি মণ্ডপে থাকা দেব-দেবীর প্রতিমা স্পর্শ করেন। একপর্যায়ে তিনি অবচেতন মনে বিভিন্ন প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করেন। গত ৮ তারিখে সদর থানায় জিডির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হাজির করা হয় রানাপদকে। তিনি আদালতে ওই প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, প্রতিবন্ধী বিবেচনায় আদালত রানাপদ সরকারকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন। প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়ে তিনি কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়েছেন কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: রাজবাড়ী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!