ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পুকুরে ভাসছিল ফাতেমার নিথর দেহ, স্বামী-ভাসুর আটক 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩৯, ১৪ অক্টোবর ২০২৪
পুকুরে ভাসছিল ফাতেমার নিথর দেহ, স্বামী-ভাসুর আটক 
আটককৃতরা। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ফাতেমা বেগম নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী রাজু ও ভাসুর বাবলুকে আটক করেছে পুলিশ।

ফাতেমার স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকে জন্য নির্যাতন করে ফাতেমাকে হত্যা করা হয়ছে। এর আগেও তাকে নির্যাতন করা হতো। 

সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগর গ্রামের নিহত ফাতেমার বাবার বাড়ি থেকে অভিযুক্ত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। এর আগে, ভোরে ওই গ্রামের একটি পুকুর থেকে ফাতেমার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

Advertisement

নিহত ফাতেমা মোহাম্মদ নগর গ্রামের মৃত সাইফুল্লাহ মওলানার মেয়ে। অভিযুক্ত রাজু ও বাবলু একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজের বাড়ির মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। রাজু পেশায় অটোরিকশার চালক। তার আরো এক স্ত্রী রয়েছে। ফাতেমা তার প্রথম স্ত্রী। 

নিহতের বড় বোন রাবেয়া আক্তার বলেন, ৫ বছর আগে আমার বোনের সঙ্গে রাজুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার বোনকে জ্বালাতন করতো, যৌতুক চাইতো। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে জমি বিক্রি করে তাকে বিদেশ পাঠানো হয়। এক মাসের মাথায় বিদেশ থেকে চলে এসে আমার বোনকে আবার নির্যাতন শুরু করে।

নিহতের বড় ভাই মো. আবদুল্লাহ বলেন, প্রায় ১৫ আমার বোন ও তার স্বামী আমাদের বাড়িতে ছিল। সোমবার ভোরে ঘরের পাশের একটি পুকুরে আমার বোনের মরদেহ পাওয়া যায়। ঘরে তারা দুইজন ও তাদের মেয়ে ছিল। আমার বোনকে তার স্বামীই হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দিয়েছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, আমরা টাকা দিয়ে রাজুকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এরপরও আমার বোনকে শান্তিতে রাখেনি। কয়েক মাস আগে রাজু অন্যত্র বিয়ে করে। এ নিয়ে তাদের সংসারে অশান্তি আরো বেড়ে গিয়েছিল। 

স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য তাজ নাহার বেগম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল যাই। ফাতেমাকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী রাজুকে বাড়ির লোকজন গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। 

অভিযুক্ত রাজু বলেন, রাতে আমরা একসঙ্গে ঘুমিয়েছিলাম। ভোররাতে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে ফাতেমা আর ঘরে আসেনি। কে বা কারা তাকে মেরেছে, আমি জানি না। 

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি কায়সার হামিদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে থানায় নেয়া হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!