ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গাসহ উদ্ধার ২০, তিন দালাল আটক

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:০৩, ১৬ অক্টোবর ২০২৪
টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গাসহ উদ্ধার ২০, তিন দালাল আটক
টেকনাফে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রোহিঙ্গাসহ ২০ নারী-পুরুষকে উদ্ধার। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রোহিঙ্গাসহ ২০ নারী-পুরুষকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মানব পাচারে জড়িত তিন দালালকে আটক করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৫অক্টোবর) রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরীর এলাকায় এ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি ও ১২ জন রোহিঙ্গা উখিয়া উপজেলার কতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা।

আটককৃত দালালরা হলেন টেকনাফের সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকার দীল মোহাম্মদের স্ত্রী লোনা বেগম, একই এলাকার মোহাম্মদ ইউনুসের ছেলে রিদুয়ান ও সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার সাকের হোসাইনের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ।

Advertisement

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে মানব পাচারকারী একটি চক্র টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে জমায়েত করছেন। এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে দক্ষিণ লম্বরী এলাকার একটি বাড়ি থেকে ২০ মালয়েশিয়াগামীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিন দালালকে আটক করতে সক্ষম হয়। 

তিনি আরো বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন। 

মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা নারী উম্মে হাবিবা বলেন, ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা কন্ট্রাক্টে আমার ছোট বোনকে নিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করি। এ জন্য দালালকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়েছি। বাকি ৩ লাখ টাকা মালেয়শিয়া পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল  কিন্তু দালালরা টেকনাফের একটি বাড়িতে দুইদিন আটকে রাখে। অবশেষে যাত্রার প্রস্তুতিকালে পুলিশের কাছে ধরা পড়েছি।

তিনি আরো বলেন, আরো বাড়িতে এবং পাহাড়ে অনেক রোহিঙ্গা আটকা আছে দালালদের হাতে।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা বলেন, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয় ক্যাম্পে এক দালালের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। পুলিশের জালে আটক হওয়ার পর আর যাওয়া হয়নি।

মালয়েশিয়াগামী নুর কায়াস নামের এক রোহিঙ্গা তরুণী বলেন, আমার বোন মালয়েশিয়া থাকে। সে মালয়েশিয়ায় আমার বিয়ে ঠিকঠাক করেছে। তাই বিয়ে করতেই আমি মালয়েশিয়ায় যাচ্ছিলাম। দালালকে চিনি না আমরা। অনেকেই মালয়েশিয়া থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারাই মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ক্লিয়ার করেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, আটককৃত দালালদের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে নতুন করে মামলা দায়ের করে হবে। এর আগে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। রোহিঙ্গাদের স্ব-স্ব ক্যাম্পে পাঠানো হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: কক্সবাজার
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!