ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মর্গে মরদেহ ফেলে পালানোর ঘটনায় গ্রেফতার ৩

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:২১, ১৮ অক্টোবর ২০২৪
মর্গে মরদেহ ফেলে পালানোর ঘটনায় গ্রেফতার ৩
ছবিতে ইনসেটে গৃহবধূর স্বামী আল ফাহাদ চৌধুরী

চট্টগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শাহনাজ কামরুন নাহারের মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাওয়া স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন নিহত গৃহবধূর ভাই শাহনেওয়াজ।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- গৃহবধূর স্বামী মোহাম্মদ আল ফায়াদ চৌধুরী, শাশুড়ি চেমন আরা রফিক, স্বামীর চার বোন তাসলিমা আফরোজ, খাদিজা আফরোজ, তাহমিনা আফরোজ ও নাজিফা সালসাবেন এবং বড় বোন তাসলিমা আফরোজের স্বামী মোহাম্মদ লোকমান।

Advertisement

মোহাম্মদ আল ফায়াদ চৌধুরীর বাড়ি পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায়। নগরের কসমোপলিটন আবাসিক এলাকার পাঁচ নম্বর সড়কে কাইয়ুম রেসিডেন্সের চতুর্থ তলায় থাকেন তারা।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। রাতে ঐ গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে রাতেই মরদেহটি ফেলে পালিয়ে যান তারা। পরে খবর পেয়ে সেটি উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর আল ফায়াদ চৌধুরীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় শাহনাজের। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করতেন আল ফায়াদ। নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় অনাগত সন্তান ও নিজ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সব নির্যাতন সহ্য করে সংসার করে আসছিলেন শাহনাজ। কিন্তু ধীরে ধীরে তার ওপর বাড়তে থাকে নির্যাতন।

গত ১৬ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে শাহনাজের শাশুড়ি ফোন করে তার ভাইকে জানান, অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন শাহনাজ। ভাই শাহনেওয়াজ বিষয়টি জানতে পেরে ঢাকা থেকে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেউ সাড়া দেননি। 

পরে শাহনেওয়াজ তার তার স্ত্রীর মাধ্যমে জানতে পারেন- তার বোনকে চট্টগ্রামের বেসরকারি ন্যাশনাল হসপিটালে নেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই হাসপাতালে ভর্তি না করায় পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহনাজকে মৃত ঘোষণা করেন এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘লিগ্যাচার মার্ক অ্যারাউন্ড নেক’ উল্লেখ করেন। এরপর শাহনাজের মরদেহ সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

মামলার বাদী শাহনেওয়াজের ধারণা- অভিযুক্তদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন শাহনাজ।

মামলার বাদী শাহনেওয়াজ বলেন, বিয়ের পর থেকে ফ্রিজ, টিভি, আসবাবপত্রসহ নানা কিছু যৌতুক হিসেবে দিয়েছি। কিন্তু আমরা যেটাই দেই না কেন, তাদের তা পছন্দ হতো না। এসব নিয়ে সবসময় আমার বোনকে খোঁটা দেওয়া হতো। বিভিন্নরকম মানসিক নির্যাতন করা হতো। পান থেকে চুন খসলেই তার গায়ে হাত তোলা হতো। ঘরের ছোটখাটো কাজেও ভুল ধরে অত্যাচার করা হতো।

তিনি বলেন, আমার বোনের সঙ্গে ঐদিন রাত ১টা পর্যন্ত আমি নিজেই কথা বলেছি। এর আগে তার স্বামী আমাকে কল দিয়ে বিচার দিয়েছে। আমি বোনের সঙ্গে কথা বলার পর দেড়টার দিকে তার শাশুড়ি আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে জানান- সে অজ্ঞান হয়ে গেছে। এটা নিশ্চিত হত্যা।

মামলার বিষয়টি তদারকি করছেন নগর পুলিশের এসি (পাঁচলাইশ জোন) মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, শাহনাজ নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো বলে জানতে পেরেছি। যার কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন তার ভাই। আমরা এরই মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছি। আমাদের তদন্ত চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!