ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
পাবনা

পরচুলায় স্বাবলম্বী ২ শতাধিক নারী

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫৮, ২১ অক্টোবর ২০২৪
পরচুলায় স্বাবলম্বী ২ শতাধিক নারী
পরচুলা তৈরি করেছেন নারীরা

পরচুলা তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার নারীরা। নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের বক্তারপুর, রাকসা ও কাশীনাথপুর ইউনিয়নের টাংবাড়ি এলাকার দুই শতাধিক নারী এই পরচুলা তৈরির কাজ কাজ করছেন। গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরি এ পণ্যটি রফতানি হচ্ছে বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে।

সম্ভাবনাময় এ শিল্প গ্রামের মেয়েদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি কর্মদক্ষ করে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। অনেক ছাত্রী পড়াশোনার পাশাপাশি এ কাজ করে নিজেদের খরচ জোগাচ্ছেন। গৃহবধূরা সংসারে বাড়তি আয় করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনার নতুন ভারেঙ্গার ইউনিয়নের রাকসা, চকপাড়া, পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের বকচর ও কাশীনাথপুর ইউনিয়নের টাংবাড়ি গ্রামে বেশ কয়েকটি পরচুলা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এতে দুই শতাধিক নারী কাজ করে থাকেন।

Advertisement

উদ্যোক্তারা জানান, একটি পরচুলা টুপি বানাতে সময় লাগে ২-৩ দিন। একজন কারিগর মাসে ৮-১০টি পরচুলা টুপি বানাতে পারেন। এতে প্রকারভেদে ৫০০ থেকে ১৩০০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। প্রতিটি টুপিতে ২০ থেকে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত চুল লাগে। টুপি তৈরিতে লাগে মাথার ডামি, চুল, নেট, সুই, সুতা, চক ও 

পরচুলা তৈরির কারিগররা জানান, প্রতিটি টেবিলে স্ক্রুর সাহায্যে আটকানো থাকে প্লাস্টিকের ডামি মাথা। ডামি মাথার ওপর থাকে নেট। নেটের ফাঁকে ফাঁকে সুইয়ের ফোঁড়ে আটকানো হয় একেকটি চুল। ডামির পুরো মাথায় সূক্ষ্মভাবে চুল আটকানো হয়। 

উদ্যোক্তা ওসমান গণি জানান, পরচুলা তৈরির এসব উপকরণ তিনি ঢাকা থেকে নিয়ে আসেন। পরচুলা তৈরি করে আবার ঢাকায় পাঠাতে হয়। সেখানে থকে দেশের বাইরে রফতানি হয়। তার কারখানায় নারীরা কাজ করে মাসে ৮ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকেন।  

কারিগর সোনিয়া খাতুন ও রোকেয়া খাতুন জানান, এখানে কাজ করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন তারা।

রাকসা গ্রামের সোহেল রানার কারখানায় কারিগর ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সুলতানা ইয়াসমিন বলেন, আমি পড়াশোনার পাশাপাশি এ কাজ করে প্রতি মাসে প্রায় সাত-আট হাজার টাকা উপার্জন করি। যা দিয়ে আমার পড়াশোনার খরচ চালিয়ে সংসারে দেই। একটি টুপি তৈরি করতে দুই থেকে তিনদিন সময় লাগে, তবে স্কুল ছুটি থাকলে একদিনেও করা যায়। 

কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার যুথী জানান, তিনি এ কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগান ও সংসারে দেন।

পরচুলা তৈরি করেছেন কারিগর

স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় হোসেন জানান, সরকার যদি এ শিল্প খাতে পৃষ্ঠপোষকতা করে তাহলে এলাকায় আরো কারখানা গড়ে উঠবে। এতে বেকারত্বের হার অনেকটাই কমে যাবে।

বেড়া উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা জানান, নতুন ভারেঙ্গা, পুরান ভারেঙ্গা, জাতসাখিনী ও আমিনপুরে মোট পাঁচটি পরচুলা তৈরি কারখানা হয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক নারী এ কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের হাতের তৈরি এই পরচুলা বিশ্বের প্রায় ২৫টি দেশে রফতানি হচ্ছে। 

তিনি আরো জানান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতর থেকে তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হবে।

সমাজসেবা অধিদফতর পাবনার সহকারী পরিচালক গোলাম সারোয়ার জানান, এমন উদ্যোগ দারিদ্র বিমোচনে বিরাট ভূমিকা রাখছে। গার্মেন্টস শিল্পের মতো এ খাতটিকে প্রতিষ্ঠিত করা গেলে আরো বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া সমাজসেবা অধিদফতর থেকে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: নারী পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!