ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের শ্রীপুর মধ্যপাড়া এলাকায়। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ওই এলাকার জাফর মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের শ্রীপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত জাফর আলীর ছেলে।
নিহতের ছেলেদের অভিযোগ, অপকর্ম ও পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় তাদের বাবা জাহাঙ্গীর আলম মা রওশন আরাকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় তারা থানায় বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ হত্যা মামলা না নিয়ে অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছে। দুপুরে দুই ছেলে রনি (৩০) ও রুবেল (২৭) সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন।
.png)
জানা গেছে, প্রায় ৩৫ আগে উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের শ্রীপুর মধ্যপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একই উপজেলার দাড়িপাকা গ্রামের ঈমান আলীর মেয়ে রওশন আরার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের এক ছেলে রনি প্রবাসে ও ছোট ছেলে রুবেল অসুস্থতার কারণে বাড়িতেই থাকেন। বেশ কয়েক বছর ধরে রওশন আরার স্বামী জাহাঙ্গীর পরকীয়া ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্থানীয় সালিস বৈঠকে জরিমানাও দিয়েছেন জাহাঙ্গীর।
এমন অপকর্মে গৃহবধূ রওশন আরা বাধা দিলে স্বামী-শাশুড়ি মিলে প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকেলেও জাহাঙ্গীর তার স্ত্রীকে বেদম মারধর করেন। ওই দিনই রওশন আরা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রওশনের বাবার বাড়ির লোকজন এসে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে লাশটি বাড়িতে নিয়ে এলে পুলিশ তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠিয়েছে।
বড় ছেলে রনি আহমেদ বলেন, এক মাস আগে বাবার অত্যাচারে আমাদের মা তার বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কৌশলে ফিরিয়ে এনে তাকে পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার বাবার পরকীয়ার কারণেই মাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরাসহ পরিবারের সবাই বাবাকে এসব অপকর্ম থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কারও কথা শোনেননি। বাংলাদেশের আইনে হত্যা মামলায় যে শাস্তি হয়, আমি আমার বাবার সেই শাস্তি দাবি করছি।
ছোট ছেলে রুবেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমার মাকে অত্যাচার করা হচ্ছিল। আমার বাবা এখন পলাতক, আমি তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।
সখীপুর থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা নিয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীকালে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।