ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

১০০ কোটি টাকার বালু পাথর লুট

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩৩, ২৯ অক্টোবর ২০২৪
১০০ কোটি টাকার বালু পাথর লুট
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার বিভিন্ন নদীতে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে অংশীজনের সঙ্গে মত বিনিময় সভা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদীতে গত ৩ মাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকার  বালু ও পাথর লুট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই বালু পাথর লুট বন্ধে পুলিশ ভিন্ন কায়দায় নদীর প্রবেশ মুখে ব্যারিকেড দিয়েছে। 

পাশাপাশি কীভাবে এই নদী রক্ষা করা যায় সেটি নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় সুনামগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা সরাসরি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন নদী লুটের সঙ্গে জড়িত অভিযোগ এনে সভায় পুলিশ সুপারের পদত্যাগের দাবি করেন। 

এতে সভায় হট্টগোল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ সুপারের দাবি নদী লুটের সঙ্গে যে পুলিশ সদস্যরা জড়িত তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদীতে হঠাৎ করেই ড্রেজার লাগিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন শুরু হয়।

Advertisement

দফায় দফায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ বালু ও পাথর লুট বন্ধ করতে পারেনি। যার ফলে গত শুক্রবার বিকেলে সুনামগঞ্জ সদর থানার উদ্যাগে চলতি নদীর প্রবেশ মুখে বড় তিনটি ব্লাকহেড দিয়ে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা রেখে প্রবেশ মুখ ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এতে বন্ধ হয় নদী লুটের সাম্রাজ্য। পরে গত দুই দিনে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে নদীর লুটের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা বাবুল ও নিজামকে গ্রেফতার করে।
  
পাশাপাশি সোমবার (২৮ অক্টোবর)  সকালে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার বিভিন্ন নদীতে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে অংশীজনের সঙ্গে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দিক। সভা সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হলেও সেখানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বক্তব্য রাখেন। তবে দুপুর ২টায় সভায় হঠৎ করে সুনামগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সময় বাদে বিপত্তি। সেখানে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলার পুলিশ প্রশাসনের যোগসাজশে চলতি নদী লুট হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেন। পরে সভা হলে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগের দাবি তুলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে উত্তাল হয়ে এলোমেলো হয়ে পড়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভা হল। এক পর্যায়ে সভায় উপস্থিত থাকা বিভাগীয় কেন্দ্রীয় দুই সমন্বয়ক হাতে মাইক নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

তারা বলেন, যে অন্যায় করবে শিক্ষার্থীরা তার রিরুদ্ধে কথা বলবে। দেশের যে কোনোও উপদেষ্টাকে নামাতে শিক্ষার্থীদের মাত্র ২৪ ঘণ্টা যথেষ্ট। তবে বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জে আমি নতুন যোগদান করেছি। নদী লুটের সঙ্গে যে পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সুনামগঞ্জের নদী লুট বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। আবু আহমদ ছিদ্দিক, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ২০১৮ সালে সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করে নির্দেশনা জারি করে পরিবেশ অধিদফতর।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: সুনামগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!