ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হোসেনপুরে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

সাগর মিয়া, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ৬ নভেম্বর ২০২৪
হোসেনপুরে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দুই কৃষক -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। কিন্তু হেমন্তকে পেছনে ফেলে প্রকৃতিতে বিরাজ করছে শীতের আমেজ। আর শীতকালকে বলা হয় শাক-সবজির ভরা মৌসুম। এসময় বাঙালিরা বিভিন্ন জাতের শাক-সবজির স্বাদ নেয়ার সুযোগ পান। যদিও শীত আসতে কিছুটা সময় বাকি, তবুও এরমধ্যে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি। চাষকৃত এসব সবজি নিয়েই স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।

ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, বেগুন, মুলা, পালংশাক, লালশাকসহ এমন নানা শাক-সবজিতে ভরে গেছে কৃষকের ক্ষেত। ভালো দাম পাওয়ার আশায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এরমধ্যে বাজারেও উঠতে শুরু করেছে শীতকালীন আগাম সবজি। তবে দাম অনেক চড়া।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরেজমিনে এ উপজেলার রামপুর, দাপুনিয়া, ডাহরা, রহিমপুর, চরজামাইল, কাওনা, ভরুয়া, চরবিশ্বনাথপুর, চরহাজিপুর, সাহেবেরচর এলাকার মাঠগুলোতে দিনভর চাষিদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, বেগুন, মুলা, লাউ, পটল, বরবটি, গাজর, পালংশাক, লালশাকসহ হরেক রকম আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এখানকার কৃষকেরা রোদে পুড়ে সবজির ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। কেউ চারার পরিচর্যা করছেন আবার কেউ সার-বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন। এছাড়াও যারা শাক-সবজি চাষে পিছিয়ে পড়েছেন তারাও জমি প্রস্তত, বীজ বপণে তোড়জোড় শুরু করেছেন।

Advertisement

কৃষকেরা জানান, আগাম শীতকালীন সবজি চাষে পোকা মাকড়ের আক্রমণ, বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও খরচ হয় বেশি। তারপরও বাজারে ভালো দাম থাকায় লাভ হয় দ্বিগুণ। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো দাম পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। উপজেলার চরপুমদী গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দীন, মুক্তুমিয়া, তাজুল ইসলাম, ডাহরা গ্রামের কৃষক তাহের উদ্দিন, মফিজ মিয়া আগাম সবজি চাষ করে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

চরপুমদী গ্রামের আগাম সবজি চাষি জালাল উদ্দিন বলেন, লালশাকের চাষ করেছি। এ বছর মাঝখানে বৃষ্টির কারণে চারা কিছুটা নষ্ট হয়েছে। তারপরও যেসব চারা আছে সেগুলোই এখন পরিচর্যা করছি ভালে দাম পাওয়ার আশায়।

আরেক কৃষক দ্বীন ইসলাম বলেন, এ বছর ১৫ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছি। আগাম শীত মৌসুমের জন্য যেসব সবজি চাষ করা হয় দাম ভালোই পাওয়া যায়। কিন্তু পরিচর্যা বেশি করতে হয়। পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়। আবার বৃষ্টি হলে চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে ভালো দামের আশায় আগাম সবজি চাষ করা হয়।

ডাহরা গ্রামের সবজি চাষি তাহের মিয়া বলেন, ১০ শতাংশ জমিতে আগাম সবজি চাষ করেছি। অনেক খরচ পড়েছে। তবে অসময়ে বাজারে সবজির চাহিদা থাকে অনেক। এ কারণে এই সবজিগুলো বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা যায়। এ জন্য আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আমাদের আগ্রহ বেশি থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একে এম শাহজাহান কবির জানান,বৃষ্টির পর থেকে কৃষকেরা আগাম শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ শুরু করেছেন। যা এরইমধ্যে বাজারে উঠেছে এবং কৃষকেরাও ভালো দাম পাচ্ছেন। আগাম শীতকালীন সবজি চাষে একটু ঝুঁকি বেশি থাকে। এজন্য কৃষকদের সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে সুষম সার, জৈব সার এবং কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারের জন্য মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো জানান, লাভজনক হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত শীতের সবজি চাষ হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: হোসেনপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!