ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মরদেহ গুম করতেই গলায় কলসি বেঁধে ফেলা হয় নদীতে 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২৫, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
মরদেহ গুম করতেই গলায় কলসি বেঁধে ফেলা হয় নদীতে 
ছবিতে মরদেহের সঙ্গে পাওয়া কলস ও ওমর আলী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিখোঁজের দুদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ওমর আলী নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। 

শনিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তাড়াব পৌরসভার নোয়াপাড়া এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ওই বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওমর আলী রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুর এলাকার মৃত ফৈজদ্দিনের ছেলে।  

এদিকে নিহত বৃদ্ধের ছেলে শফিকুল ইসলামের দাবি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরেই তার বাবাকে হত্যা করে গুমের উদ্দেশ্যে কলসির সঙ্গে বেঁধে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, ওমর আলীর আরেক ছেলে রফিকুল ইসলাম একই এলাকার লিপি আক্তার নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে রফিকুল ইসলাম ও লিপি আক্তার মিলে নানাভাবে অত্যাচার ও ভয়ভীতি দেখাতো ওমর আলীকে। ফলে ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন ওমর আলী। গত ৬ মাস আগে ছেলে রফিকুল ইসলাম মারা যায়। এরপর লিপি আক্তারের কোনো জমি না থাকায় ওমর আলী বাড়িতে একটি ছাপরা ঘরে এক মাসের জন্য লিপি আক্তারকে থাকতে দেন। এক মাস পর লিপি আক্তারকে ঘর ছাড়তে বলে ওমর আলী।

তারা আরো জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর লিপি আক্তারসহ তার বাবার বাড়ির লোকজন মিলে ওমরের আরেক ছেলে শফিকুল ইসলামকে মারধর করে। এ নিয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করে শফিকুল ইসলাম। সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা নিয়ে কয়েক মাস ধরেই লিপি আক্তারের সঙ্গে ওমর আলী ও শফিকুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছিল।

ইছাপুড়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) আমিরুল সিকদার বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলার সঙ্গে একটি পানি রাখার কলসি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর গুমের জন্য মরদেহটির গলায় কলসি বেঁধে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে যায়। পরে ছেলে শফিকুল ইসলাম তার বাবা ওমর আলীর মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহতের ছেলে শফিকুল ইসলাম দাবি করে বলেন, সম্পত্তিকে কেন্দ্র করেই আমার বাবা ওমর আলীকে হত্যা করে। তারপর গুমের উদ্দেশ্যে গলায় কলসির সঙ্গে বেঁধে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয় মরদেহ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মেহেদী হাসান বলেন, নৌপুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা করেছে নিহতের পরিবার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!