মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকের পর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।
বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধীন উদয়নগর বিওপি সীমান্তের ওপারে ১৪৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের জলঙ্গী ক্যাম্পের কাছে (ভারতের অভ্যন্তরে) বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
.png)
বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই বৈঠক। এতে বিজিবির পক্ষে ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এবং বিএসএফের পক্ষে ১৪৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের উপ-অধিনায়ক মনোহর লাল নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতার মনোভাব বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু বিষয়ে আলোচনা ও ঐকমত্য পোষণ করেন তারা। সীমান্তে বাংলাদেশিদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বা ফায়ারিং না করার অনুরোধে বিএসএফ একমত পোষণ করেছে। এছাড়া ভারত থেকে মাদকদ্রব্য, নিষিদ্ধ পণ্য ও অবৈধ অস্ত্র যেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে বিএসএফের কঠোর নজরদারি ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সীমান্তে বিএসএফের জনবল বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বিএসএফ কমান্ডার নিশ্চিত করেন, জনবল বৃদ্ধি তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। মূলত; মাদক ও অন্যান্য অবৈধ চোরাচালান আরো কার্যকরভাবে প্রতিরোধ এবং কাঁটাতারের বেড়াহীন এলাকাগুলোতে ভারতের অভ্যন্তরে ১৫০ গজ দূরত্বে কাঁটাতার স্থাপনের প্রস্তুতি হিসেবে পর্যবেক্ষণ ও চিহ্নিতকরণ কার্যক্রমের জন্য জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এরপর, উদয়নগর বিওপি সংলগ্ন আতারপাড়া গ্রামের পদ্মা নদীর ভাঙনের ফলে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বসতবাড়ি নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করে বিএসএফ প্রতিনিধি। তিনি বিজিবি অধিনায়ককে অনুরোধ করেন, যেন ভবিষ্যতে সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা না হয়। বিদ্যমান ভূমি-বাস্তবতার নিরিখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক।
মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে চোরাকারবারি বা দুষ্কৃতকারীদের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আরো কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়েও কথা হয়েছে। এ জন্য বিএসএফ টহল কমান্ডার এবং কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের পরিবর্তে স্থায়ী ও অফিসিয়াল সেলফোন নম্বর আদান-প্রদানের পরামর্শও প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএসএফ কমান্ডার একমত পোষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।