ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

৬০ বছরে ২ বিয়ে, নিঃসন্তান ভানু বিবির পাশে কোটালীপাড়ার ইউএনও

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪
৬০ বছরে ২ বিয়ে, নিঃসন্তান ভানু বিবির পাশে কোটালীপাড়ার ইউএনও
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বহারা অসহায় ভানু বিবির (৮০) খোঁজ নিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার। পরে তিনি ভানু বিবির হাতে নগদ অর্থ, শীতের পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, ফল ও প্রসাধনী সামগ্রী তুলে দেন।

আজ শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের চিত্রাপাড়া গ্রামে ভানু বিবির বাড়িতে যান ইউএনও শাহীনুর আক্তার। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রাকিবুল হাসান শুভ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, চিত্রাপাড়া গ্রামের মৃত রাহেনউদ্দিনের মেয়ে ভানু বিবি। ৬০ বছর আগে বিয়ে হয় পিঞ্জুরী ইউনিয়নের পূর্নবতী গ্রামের কুটি মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের ২০ বছর পরে ভানু বিবির স্বামী কুটি মিয়া মারা যান। এই ২০ বছর সংসার জীবনে ভানু বিবির কোনো সন্তান হয়নি। যার ফলে ভানু বিবিকে ফিরে আসতে হয় বাবার বাড়ি চিত্রাপাড়া গ্রামে।

Advertisement

এরপর বাবার বাড়ির লোকজন মিয়ে ভানু বিবিকে আবার বিয়ে দেন রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বাবন মোল্লার সঙ্গে। বিয়ের ২৫ বছর পর স্বামী বাবন মোল্লাও মারা যান। এদিকে এই সংসারেও ভানু বিবির কোনো সন্তান হয়নি।

পুনরায় ভানু বিবি ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে। বাবার বাড়ি ফিরে আসার আগেই তার দুই ভাই আবুল হাসেম ও আবুল কাসেম মারা যান। একা হয়ে যান ভানু বিবি। আস্তে আস্তে তার বয়স বাড়তে থাকে। বৃদ্ধা ভানু বিবিকে দেখার মতো আর কেউ থাকে না। পৈত্রিক ভিটায় একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে একা বসবাস করতে থাকেন ভানু বিবি।

সম্প্রতি ভানু বিবির এই জীবনচিত্র সামাজিক যোগাযোগ ও সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আক্তার খোঁজ নিতে তার বাড়িতে ছুটে যান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আক্তার বলেন, ভানু বিবির এভাবে জীবনযাপন করাটা সত্যিই অমানবিক। আমরা ভানু বিবির কথা জানতে পেরে তার বাড়িতে ছুটে এসেছি। প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে কিছু নগদ অর্থ, শীতের পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, ফল ও প্রসাধনী সামগ্রী দিয়ে যাচ্ছি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে একটি ঘর তৈরি ও বেঁচে থাকার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করবো।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জ্ঞানের আলো পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মনিরুজ্জামান জুয়েল বলেন, উপজেলা প্রশাসন যে পদক্ষেপটি নিয়েছে সত্যিই তা প্রসংশার দাবি রাখে। সমাজে ভানু বিবিদের যেন আর এ রকমের অসহায়ভাবে জীবনযাপন করতে না হয়। সেজন্য প্রশাসনের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!