এর আগে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান শাওনের মা নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হলো। বাকিরা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, সোমবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে দগ্ধ নয়জনকে ঢাকায় আনা হয়। তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ দগ্ধ শাওন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে জরুরি বিভাগে নুরজাহান আক্তার রানীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
.png)
তিনি আরো বলেন, দগ্ধদের অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শাখাওয়াত হোসেন ও আশুরা আক্তার পাখির শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। মো. শিপনের ৮০ শতাংশ, মো. সামির আহমেদ সুমনের ৪৫ শতাংশ, আয়েশা আক্তারের ৪৫ শতাংশ, উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ এবং মো. ফারহান আহমেদ আনাসের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহর এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে দগ্ধ হন নারী-শিশুসহ একই পরিবারের নয়জন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়ায়৷ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তারা। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- কোনো কারণে চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়েছিল, যে কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হয়েছেন।